আবুধাবি, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি-র একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত-র বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ নৌ-চলাচল সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ২৮১৭-এর সরাসরি লঙ্ঘন।
বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই রেজোলিউশনে আন্তর্জাতিক জলপথে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার উপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিশানা করা এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পথের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়েছে।
এডিএনওসি হল আবুধাবি সরকারের মালিকানাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা এবং উৎপাদনের নিরিখে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল সংস্থা।
সংযুক্ত আরব আমিরাত-র বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে নিশানা করা এবং অর্থনৈতিক চাপ বা ‘ব্ল্যাকমেল’-এর হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে ব্যবহার করা ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস-এর ‘জলদস্যুতা’ এবং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানকে এই ধরনের ‘আগ্রাসী হামলা’ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সমস্ত শত্রুতামূলক কার্যকলাপ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে আবুধাবি।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশের অধিকার রক্ষায় আলোচনার পথ অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে কোনও পরিস্থিতিতেই ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
শুক্রবার প্রকাশিত তাঁর দফতরের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসা এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরের সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমেরিকা সমঝোতাপত্র অনুযায়ী নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে ইরানও তার দায়বদ্ধতা বজায় রাখবে। তবে আমেরিকা প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ হলে ইরানের পক্ষেও সেই প্রতিশ্রুতি মেনে চলার কোনও বাধ্যবাধকতা থাকবে না বলে জানান তিনি।
জুন মাসে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ওই সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছনোর কথা ছিল। তবে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় সেই আলোচনা আদৌ এগোবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।



















