আগরতলা, ৮ আগস্ট: প্রয়াত হলেন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেত্রী, প্রাক্তন বিধায়ক এবং নারী অধিকার আন্দোলনের বিশিষ্ট কর্মী কমরেড গৌরী ভট্টাচার্য। শনিবার বয়সজনিত অসুস্থতার কারণে ৯২ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর প্রয়াণে ত্রিপুরার বাম আন্দোলন ও নারী আন্দোলনের ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হল।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশন- এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন গৌরী ভট্টাচার্য। সংগঠনের বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি নারী অধিকার ও সাধারণ মানুষের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার আন্দোলনেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
ত্রিপুরায় বাম আন্দোলনের প্রাথমিক পর্বের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন গৌরী ভট্টাচার্য। রাজ্যের অগ্রণী মহিলা বিধায়কদের মধ্যেও তিনি অন্যতম। ১৯৭৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বরজলা কেন্দ্র থেকে সিপিআই(এম) প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন তিনি। এরপর ১৯৮৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও একই কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন। ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন আন্দোলনের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা তাঁকে দলের কর্মী-সমর্থক ও আন্দোলনকর্মীদের মধ্যে বিশেষ মর্যাদা এনে দেয়। বিশেষ করে নারী আন্দোলনে তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকা পরবর্তী প্রজন্মের কর্মীদের কাছেও অনুপ্রেরণার হয়ে ওঠে।
গৌরী ভট্টাচার্যের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা মানিক সরকার। তিনি গৌরী ভট্টাচার্যের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন এবং বাম আন্দোলন ও নারী আন্দোলনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করেন।
সিপিআই(এম) ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীও তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি গৌরী ভট্টাচার্যকে একজন প্রবীণ ও নিষ্ঠাবান কমরেড হিসেবে স্মরণ করে বলেন, সংগঠন, নারী আন্দোলন এবং সাধারণ মানুষের সংগ্রামের প্রতি তাঁর জীবনভর অঙ্গীকার ছিল।
তাঁর প্রয়াণে দলের নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন গণআন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিনের এই লড়াকু কমরেডের আদর্শ ও সংগ্রামী ভূমিকা আগামী প্রজন্মের কর্মীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে স্মরণ করেছেন দলের নেতা ও কর্মীরা।



















