নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো এবং সরকারের বিভিন্ন সহায়ক উদ্যোগের ফলে ভারতের স্বনির্ভর মেডিকেল টেকনোলজি বা মেড-টেক ইকোসিস্টেম ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে বলে শনিবার মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে ভারত সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত বৈশ্বিক মেড-টেক অংশীদার হিসেবে ধীরে ধীরে উঠে আসছে বলেও জানান তিনি।
এক্স-এ একটি পোস্টে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডার লেখা একটি নিবন্ধ শেয়ার করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই নিবন্ধে ভারতে দেশীয় মেডিকেল ডিভাইস উৎপাদন ও মেডিকেল ডিভাইস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রগতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।
মোদি লেখেন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা ভারতের ক্রমবর্ধমান স্বনির্ভর মেড-টেক ইকোসিস্টেমের কথা তুলে ধরেছেন। দেশীয় উৎপাদন, আমদানি নির্ভরতা হ্রাস এবং প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (পিএলআই) ও মেডিকেল ডিভাইস পার্কের মতো সরকারি প্রকল্প এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।
নাড্ড তাঁর নিবন্ধে জানান, মেডিকেল ডিভাইসের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে সরকার পিএলআই প্রকল্প, মেডিকেল ডিভাইস পার্ক এবং ফার্মা-মেডটেক ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার জন্য প্রোমোশন অব রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ইন ফার্মা-মেডটেক (পিআরআইপি) প্রকল্পের মতো একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, পিএলআই প্রকল্পের আওতায় ভারতে ৫০টিরও বেশি উচ্চমানের মেডিকেল ডিভাইস উৎপাদন শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, এই ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগ অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়ছে।
আমদানি করা মেডিকেল ডিভাইসের উপর নির্ভরতা কমানো গেলে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান নাড্ড। এর ফলে উন্নতমানের রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি, ইমেজিং সিস্টেম, ইমপ্ল্যান্ট এবং ইনটেনসিভ কেয়ার সরঞ্জামের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রযুক্তি আরও সহজলভ্য হতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, মেডিকেল ডিভাইস হিসেবে ব্যবহৃত সফটওয়্যার, সংযুক্ত মেডিকেল ডিভাইস, রোবোটিক্স এবং দূরবর্তী রোগ নির্ণয়ের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিতেও ভারতের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
নাড্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের মেড-টেক বাজারের মূল্য প্রায় ১৫-১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং প্রতি বছর প্রায় ১২ শতাংশ হারে এই বাজার বাড়ছে। এশিয়ায় ভারত বর্তমানে চতুর্থ বৃহত্তম মেডিকেল টেকনোলজি বাজার এবং বিশ্বে শীর্ষ ২০টি বাজারের অন্যতম বলেও জানান তিনি।
রোগীর নিরাপত্তা বাড়ানো এবং ভারতীয় মেডিকেল ডিভাইসগুলিকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা, পরীক্ষার পরিকাঠামো এবং ক্লিনিক্যাল প্রমাণ তৈরির উপরও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান নাড্ড।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মতে, শক্তিশালী মেডিকেল ডিভাইস শিল্প দেশে উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রফতানি এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। পাশাপাশি এর ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সাশ্রয়ী, সহজলভ্য এবং সংকট মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
এর আগে চলতি সপ্তাহেই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আগামী দিনে ভারতের দেশীয় মেডিকেল ডিভাইস শিল্প বিশ্বব্যাপী একটি শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ভারতের মেডিকেল ডিভাইস বাজার চলতি দশকের মধ্যেই ৩০-৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে তা ২৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



















