আগরতলা, ৮ আগস্ট: গত কয়েক মাস ধরে বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং স্মার্ট মিটার সংক্রান্ত নানা সমস্যাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিলের মাশুল বৃদ্ধি ও গ্রাহকদের বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে গোমতী জেলা যুব কংগ্রেস।
সংগঠনের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে তারা এই বিষয়গুলি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। যুব কংগ্রেসের দাবি, ত্রিপুরার মতো রাজ্যে পালাটানা বিদ্যুৎ প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলেছে। তাদের বক্তব্য, যে পরিবারগুলির মাসিক বিদ্যুৎ বিল দীর্ঘদিন ধরে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে ছিল, বর্তমানে একই ধরনের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সেই বিল বেড়ে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। নতুন কোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার না করেও কেন বিল এতটা বাড়ছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা বিদ্যুৎ দপ্তরের কাছে দাবি করেছে যুব কংগ্রেস।
পাশাপাশি স্মার্ট মিটার বসানো নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, স্মার্ট মিটার বসানোর ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ রিচার্জ করতে গিয়েও সাধারণ মানুষকে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ যুব কংগ্রেসের।
এইসব দাবিকে সামনে রেখে ৩১ রাধাকিশোরপুর ব্লক যুব কংগ্রেসের উদ্যোগে বিদ্যুৎ বিলের মাশুল বৃদ্ধি, মিটার চার্জ এবং প্রিপেইড রিচার্জ ব্যবস্থায় গ্রাহক হয়রানির প্রতিবাদে ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেডের বন্ধুয়ার ইলেকট্রিক্যাল উদয়পুর ডিভিশন কার্যালয়ে গিয়ে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আনন্দ সরকারের হাতে ডেপুটেশন তুলে দেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ৩১ রাধাকিশোরপুর ব্লক যুব কংগ্রেস সভাপতি প্রসেনজিৎ ব্যানার্জি, গোমতী জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি ইন্দ্রজিৎ দাস, সাধারণ সম্পাদক প্রীতম বৈদ্যসহ জেলা ও ব্লক স্তরের অন্যান্য নেতৃত্ব।
ডেপুটেশনে মোট ছয় দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ বিলের মাশুল কমানো, মিটার চার্জ হ্রাস, স্মার্ট মিটার বাতিল, প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে রিচার্জের নামে গ্রাহক হয়রানি বন্ধ, টিএসইসিএল-এর ঠিকাদারদের বকেয়া বিল দ্রুত পরিশোধ এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের শূন্যপদে দ্রুত কর্মী নিয়োগ।
যুব কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের হুঁশিয়ারি, সাধারণ মানুষের স্বার্থে দ্রুত দাবিগুলি পূরণ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে সংগঠন।



















