ঢাকা, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৭,৮৮০-তে পৌঁছেছে। দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।
ডিজিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মধ্যে ঢাকাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিভাগ। চলতি বছরে এই বিভাগে ৬,৮৭১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু ঢাকা শহরেই আক্রান্তের সংখ্যা ৪,৪০৪।
৩,৬৪৭ জন আক্রান্ত নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বরিশাল বিভাগ। এরপর চট্টগ্রামে ৩,০৮২ এবং খুলনায় ২,২৭২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।
মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকেও ঢাকা বিভাগ শীর্ষে। সেখানে এখনও পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ জনই ঢাকা শহরের বাসিন্দা। খুলনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে যথাক্রমে সাত ও ছয়জন ডেঙ্গু আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে বলে বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘দ্য ডেইলি স্টার’ জানিয়েছে।
মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ ডেঙ্গু বাংলাদেশে গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। মূলত এডিস ইজিপ্টাই মশার মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়।
বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জি এম সাইফুর রহমান বলেন, ঢাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব, এডিস মশার ক্রমাগত বংশবিস্তার এবং অপর্যাপ্ত মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা—এই তিনটি কারণের সম্মিলিত প্রভাবেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
তাঁর মতে, অতিরিক্ত জনঘনত্ব, উষ্ণ আবহাওয়া এবং মশার প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশের কারণে ঢাকায় সারা বছরই এডিস মশা ও ডেঙ্গু ভাইরাসের বিস্তারের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ফলে ঢাকা বিভাগ ডেঙ্গুর অন্যতম প্রধান হটস্পটে পরিণত হয়েছে।
সাইফুর জানান, কয়েকদিন আগে সেন্ট্রাল মেট্রোপলিটন উইমেন্স কলেজে পরীক্ষার তদারকির সময় একটি ছোট জলভর্তি পাত্রে এডিস মশার লার্ভা দেখতে পান তিনি। তাঁর দাবি, শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এ ধরনের মশার প্রজননস্থল রয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত এডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে।
মশা নিয়ন্ত্রণের বর্তমান ব্যবস্থাকে মূলত প্রতিরোধমূলক না হয়ে প্রতিক্রিয়াশীল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম থাকার সময়েই মশা নিয়ন্ত্রণ অভিযান জোরদার করা উচিত। সেই সময় প্রজননস্থল কম থাকায় নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ আরও কার্যকর হতে পারে। কিন্তু সাধারণত ডেঙ্গুর মরশুম শুরু হওয়ার পরই মশা নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়, ততদিনে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে শুরু করে।
সাইফুরের মতে, কার্যকর কেন্দ্রীভূত মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশের ব্যর্থতাও ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ। তিনি বিশেষজ্ঞ কীটতত্ত্ববিদদের নিয়ে একটি জাতীয় মশা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবি জানান। এই কর্তৃপক্ষ গোটা দেশে মশা নিয়ন্ত্রণের কাজের মধ্যে সমন্বয়, নজরদারি ও তদারকি করতে পারে বলে তিনি মত দেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সমন্বিত জাতীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠা পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার সতর্ক করেছেন, আগস্টজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে এবং সেপ্টেম্বরেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ আগস্টেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছবে এমনটা নিশ্চিত নয়। এ বছরের সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায় সেপ্টেম্বরে পৌঁছতে পারে। তবে আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
—আইএএনএস



















