চেন্নাই, ৮ আগস্ট (আইএএনএস): অনলাইন আর্থিক প্রতারণায় চুরি করা টাকা গ্রহণ, স্থানান্তর ও গোপন করতে ব্যবহৃত ‘মানি মিউল’ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে তামিলনাড়ু জুড়ে বড়সড় অভিযান শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ। এই অভিযানের অংশ হিসেবে চেন্নাই সাইবার ক্রাইম উইং প্রতারণা চক্রকে নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে ৮০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জেলাতেও একই ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করে তল্লাশি ও যাচাইয়ের কাজও একাধিক জেলায় চলছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার এবং প্রতারণা চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজ্যে অনলাইন আর্থিক প্রতারণার ক্রমবর্ধমান ঘটনায় উদ্বেগের মধ্যেই এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। গত বছর তামিলনাড়ুতে সাইবার অপরাধের শিকার ব্যক্তিরা প্রায় ১,৮৯৭ কোটি টাকা হারিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাইবার অপরাধী চক্রগুলিকে আর্থিক সহায়তা জোগানো পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ শুরু করেছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের মতে, ভুয়ো অনলাইন ট্রেডিং ও বিনিয়োগ প্রকল্প, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণা, গেমিং জালিয়াতি-সহ বিভিন্ন ধরনের অনলাইন অপরাধে জড়িত চক্রগুলি টাকা গ্রহণের জন্য নিয়মিত ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’-এর ওপর নির্ভর করে। অভিযোগ, কমিশন বা এককালীন অর্থের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এটিএম কার্ড, সিম কার্ড কিংবা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের অ্যাক্সেস সংগ্রহ করে সেগুলি প্রতারকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক একাধিক তদন্তেও এই ধরনের অ্যাকাউন্টের ব্যবহার সামনে এসেছে। জুলাইয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ১৪.৯৫ কোটি টাকার কথিত অনলাইন বিনিয়োগ ও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ প্রতারণার তদন্ত করে। ওই মামলায় প্রতারণার টাকা ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ ও শেল কোম্পানির মাধ্যমে ঘুরিয়ে পরে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
এর আগে আভাদি সাইবারক্রাইম পুলিশ তিরুভেরকাড়ুর এক বাসিন্দার কাছ থেকে অনলাইন ট্রেডিংয়ের নামে ৫৯ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এক ম্যানেজারও ছিলেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, কমিশনের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংগ্রহ করে সেগুলি প্রতারকদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছিল।
‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণা এবং আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধেও সম্প্রতি অভিযান চালিয়েছে তামিলনাড়ু পুলিশ। চলতি বছরের শুরুতে রামনাথপুরমভিত্তিক একটি চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ। অভিযোগ, ওই চক্রটি আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী সিন্ডিকেটের জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার সাইবার অপরাধের অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করত।
পুলিশের মহাপরিচালক মহেশ কুমার আগরওয়ালের নির্দেশে চলা সর্বশেষ অভিযানের লক্ষ্য শুধু ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহারকারীদের চিহ্নিত করা নয়, এই অ্যাকাউন্ট সরবরাহকারী এবং তাদের নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠিত চক্রগুলিকেও শনাক্ত করা।
পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছে, কোনও ব্যক্তির কাছে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এটিএম কার্ড, চেকবুক বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের গোপন তথ্য ভাড়া, বিক্রি বা হস্তান্তর করা উচিত নয়। জেনেশুনে কোনও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাইবার অপরাধে ব্যবহারের সুযোগ দিলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টধারীকেও ফৌজদারি মামলার মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ।
—আইএএনএস



















