নিজস্ব প্রতিনিধি , আগরতলা, ৭ আগস্ট: ত্রিপুরায় একদিকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাজেহাল সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বাড়ছে ভোক্তাদের উদ্বেগ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ সামনে আসছে। এরই মধ্যে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সেকেরকোট এলাকার এক বিদ্যুৎ গ্রাহকের অভিযোগ নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বিদ্যুৎ দপ্তরের বিলিং ব্যবস্থা। এলাকাবাসীরা এই ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যুৎ অফিসে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাদের দাবি অবিলম্বে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহার করা সহ এই সমস্যার সমাধান না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন তারা।।
অভিযোগ, সেকেরকোট এলাকার বাসিন্দা রাজু দেবনাথের বাড়িতে এখনও স্মার্ট মিটার বসানো হয়নি। অথচ যে বিদ্যুৎ বিল সাধারণত এক হাজার টাকার আশেপাশে আসত, তা হঠাৎ করেই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৮৮ টাকা।
ভোক্তার দাবি, স্মার্ট মিটার বসানোর বিষয়ে আপত্তি জানানোর পর থেকেই অস্বাভাবিক পরিমাণ বিল আসতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি অফিসটিলা বিদ্যুৎ দপ্তরে গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে একাধিকবার যোগাযোগ
করলেও সমস্যার কোনো সমাধান মেলেনি।
রাজু দেবনাথের অভিযোগ, বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা তার বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনেননি। বরং জানিয়ে দিয়েছেন, এই বিল পরিশোধ করতেই হবে এবং এ বিষয়ে তাদের কিছু করার নেই। ফলে তিনি চরম আর্থিক ও মানসিক চাপে রয়েছেন।
শুধু রাজু দেবনাথই নন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে এক মাসে ৯ হাজার, ১০ হাজার এমনকি তারও বেশি অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ উঠেছে। অনেক ভোক্তার দাবি, তাদের স্বাভাবিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের সঙ্গে বিলের পরিমাণের কোনো মিল নেই। অভিযোগ, বিদ্যুৎ দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা বা সমাধান পাচ্ছেন না তারা।
এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিলের স্বচ্ছতা, বিলিং ব্যবস্থার নির্ভুলতা এবং ভোক্তাদের অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এরই প্রতিবাদে এ দিন বিদ্যুৎ অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। অফিসকর্মীদের ভেতরে বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন এলাকাবাসীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
সাধারণ মানুষের দাবি, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগগুলি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করুক সংশ্লিষ্ট দপ্তর। বিদ্যুৎ বিল বিভ্রাট এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার জেরে রাজ্যের সাধারণ বিদ্যুৎ ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা ক্রমশ বাড়ছে।
























