রাঁচি, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি)-র বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে রাঁচিতে ছাত্রদের আন্দোলন মঙ্গলবার ১১তম দিনে পড়ল। দাবি পূরণ না হলে ৬ আগস্ট ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো গত তিন দিন ধরে জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অনির্দিষ্টকালের অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, দ্রুত তাঁদের দাবিগুলি মেনে না নিলে বিধানসভা অভিযানের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
ছাত্রদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে ১৪তম জেপিএসসি সম্মিলিত সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল, জেপিএসসি ও জেএসএসসি-সিজিএল-সহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই ও ইডি তদন্ত, ওএমআর শিট, মূল পরীক্ষার উত্তরপত্র এবং বিভাগভিত্তিক কাট-অফ নম্বর প্রকাশ, বিতর্কিত পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থাগুলিকে কালো তালিকাভুক্ত করা এবং নিয়োগকারী সংস্থাগুলিতে ব্যাপক সংস্কার।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বারবার নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের ফলে যোগ্য প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হচ্ছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।
এদিকে, ১৪তম জেপিএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে ঝাড়খণ্ড সিআইডি সোমবার রাঁচি, ধানবাদ, বোকারো, দেওঘর, গোড্ডা, রামগড় এবং হাজারিবাগ জেলায় একযোগে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথি, পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিটের কার্বন কপি, অ্যাডমিট কার্ড-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এর আগে সিআইডি জেপিএসসি দফতরেও অভিযান চালিয়ে পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছিল। তদন্তের স্বার্থে প্রাক্তন জেপিএসসি চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন মুখ্যসচিব এল. কিয়াংটেকেও একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এদিকে, ছাত্রদের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মঙ্গলবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। সরকারের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ইস্যুতে বিরোধীরাও সরকারকে আক্রমণ শানিয়েছে। বিরোধী দলনেতা বাবুলাল মারান্ডির অভিযোগ, জেপিএসসি ও জেএসএসসি-র মাধ্যমে চাকরি বিক্রি করা হয়েছে। তিনি গোটা ঘটনার সিবিআই তদন্ত, দুই কমিশনের চেয়ারম্যান, সচিব ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের অপসারণ এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারাও আন্দোলনরত ছাত্রদের খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
























