নয়াদিল্লি, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনে বারবার সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করার জন্য বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোপ দাগল বিজেপি। মঙ্গলবার দলের মুখপাত্র তথা সাংসদ সম্বিত পাত্র অভিযোগ করেন, কংগ্রেস এবং তাদের সহযোগী দলগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদ অচল করে জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আইনপ্রণয়নের কাজ ব্যাহত করছে।
নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে সম্বিত পাত্র বলেন, “সংসদের প্রতিটি অধিবেশনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়। সাংসদরা নিজেদের কেন্দ্রের মানুষের সমস্যা নিয়ে সংসদে আসেন, যাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলির কাছ থেকে উত্তর পেয়ে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলতে দেওয়া হচ্ছে না, বারবার শূন্যকালও ব্যাহত হচ্ছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না।”
নীট প্রশ্নফাঁস এবং কর্নাটকে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি মুখপাত্র কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগও তোলেন।
সম্বিত পাত্রের দাবি, কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের পুত্র প্রিয়াঙ্ক খাড়্গেকে ছাত্র আন্দোলনের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নাকি বলেন, “আগে ছাত্ররা ২৫ দিন অনশন করুক, তারপর লাঠিচার্জ হবে, তার পরে আমরা ইস্তফার কথা ভাবব।” বিজেপির অভিযোগ, এই মন্তব্য নিয়ে রাহুল গান্ধী বা মল্লিকার্জুন খাড়্গে কেউই কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যসভায় ছাত্রদের স্বার্থ নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য রাখলেও নিজের ছেলের বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে কংগ্রেস সভাপতি নীরব থেকেছেন।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি)-এর পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও কংগ্রেসকে নিশানা করেন সম্বিত পাত্র। তাঁর দাবি, ঝাড়খণ্ডে হাজার হাজার ছাত্র আন্দোলন করলেও কংগ্রেস বিষয়টি নিয়ে নীরব থেকেছে এবং সংসদেও এ নিয়ে কোনও প্রতিবাদ করেনি। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস শুধুমাত্র রাজনৈতিক সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ইস্যুতে প্রতিবাদ জানায়।
বিরোধীদের বিক্ষোভের কারণে গুরুত্বপূর্ণ আইনপ্রণয়নও আটকে রয়েছে বলে দাবি করে বিজেপি। সম্বিত পাত্র বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬-এ জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধনের সময়সীমা এবং তা না মানলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে। কিন্তু বিরোধীদের হট্টগোলের কারণে বিলটি নিয়ে আলোচনা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সোমবার ব্যাঙ্কার্স বুক এভিডেন্স বিল, ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করেছেন। কিন্তু সংসদের অচলাবস্থার কারণে দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত এই গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়েও আলোচনা করা যায়নি।
উল্লেখ্য, এই মন্তব্যগুলি বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত। বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এই প্রতিবেদনে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। (আইএএনএস)
























