নয়াদিল্লি, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) নিবন্ধনের লক্ষ্য নিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)-র মাধ্যমে দেশের স্বতন্ত্র আঞ্চলিক পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি সরকারি তথ্যপত্রে জানানো হয়েছে।
তথ্যপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে ৮০০-রও বেশি জিআই-নিবন্ধিত পণ্য রয়েছে। ২০১৪ সালের পর থেকে ৬০৭টি জিআই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। গত এক দশকে জিআই-র অনুমোদিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৬৫ থেকে বেড়ে ২৯ হাজারে পৌঁছেছে (জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত)।
২০২৫ সালের সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, জিআই আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার ফি ৮০ শতাংশ কমানো হয়েছে। পাশাপাশি, জিআই ট্যাগ নবীকরণের ফি ৩,০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
সরকারের মতে, জিআই ট্যাগ কোনও পণ্যের উৎস ও স্বকীয়তার প্রমাণ দেয়, অন্যদিকে এফটিএ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বাধা কমিয়ে রপ্তানির সুযোগ বাড়ায়। ফলে জিআই-যুক্ত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই ভারতের বাণিজ্য আলোচনায় জিআই এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
তথ্যপত্রে বলা হয়েছে, জিআই ট্যাগ ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও কারুশিল্প সংরক্ষণ, অপব্যবহার রোধ এবং ভোক্তাদের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ফলে কারিগর, তাঁতি, কৃষক এবং উৎপাদক গোষ্ঠীগুলি বাজারে অধিক স্বীকৃতি পান এবং প্রিমিয়াম বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়।
সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, রপ্তানি প্রসার, পর্যটনের সঙ্গে সংযুক্তকরণ এবং বিপণনের জন্য বিশেষ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলে জিআই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। এর ফলে জিআই-স্বীকৃত পণ্য গ্রামীণ উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে।
তথ্যপত্রে উদাহরণ হিসেবে কর্নাটকের চান্নাপাটনার কাঠের খেলনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা ২০০৬ সালে জিআই স্বীকৃতি পায়। শুধুমাত্র চান্নাপাটনা অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী ল্যাকার শিল্পের মাধ্যমে তৈরি কাঠের খেলনাই এই স্বীকৃতির আওতায় পড়ে। এই স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট কারিগরদের পণ্যের স্বকীয়তা রক্ষা করার পাশাপাশি বাজারমূল্যও বাড়াতে সাহায্য করে।
বস্ত্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, জিআই ট্যাগের ফলে গ্রামীণ কারিগরদের আয় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এছাড়া ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি, প্রিমিয়াম বাজারে প্রবেশ, দরকষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্যের মূল্য সংযোজনেও জিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ভারতে বর্তমানে হস্তশিল্প, কৃষিপণ্য, উৎপাদিত পণ্য, খাদ্যপণ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ-সহ বিভিন্ন শ্রেণির অসংখ্য জিআই-স্বীকৃত পণ্য রয়েছে, যা দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্যের পরিচয় বহন করে। (আইএএনএস)
























