বেঙ্গালুরু, ৩ আগস্ট (আইএএনএস) : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমারের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করল। বেঙ্গালুরুর লোক ভবনের গ্লাস হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৯ জন বিধায়ক মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
যদিও কংগ্রেসের বিধান পরিষদ সদস্য (এমএলসি) গায়ত্রী শান্তেগৌড়ার নাম ঘোষিত মন্ত্রীদের তালিকায় ছিল, তিনি শপথ নেননি। দলীয় সূত্রের দাবি, মন্ত্রিসভা রদবদলকে ঘিরে তীব্র বিরোধিতা ও অসন্তোষের জেরে আপাতত তাঁর জন্য নির্ধারিত মন্ত্রিত্বের আসন খালি রাখা হয়েছে।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয় ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের মাধ্যমে। এরপর জাতীয় সঙ্গীত এবং রাজ্য সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে পুনরায় ‘বন্দে মাতরম’, জাতীয় সঙ্গীত ও রাজ্য সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট নতুন মন্ত্রীদের পদ ও গোপনীয়তার শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার, উপমুখ্যমন্ত্রী জি. পরমেশ্বরা-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য সিদ্ধারামাইয়া অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।
নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এন. ধর্ম সিংয়ের পুত্র এবং তিনবারের বিধায়ক অজয় সিং, মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এইচ.সি. বালাকৃষ্ণ, প্রথমবারের বিধায়ক কে.এস. বসবন্তাপ্পা, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা বসবরাজা রায়ারেড্ডি, প্রাক্তন মন্ত্রী এন. চেলুভারায়স্বামী, লক্ষ্মণ সাভাদি, মধু বাঙ্গারাপ্পা, এস.এস. মল্লিকার্জুন, বি. নাগেন্দ্র, পি.এম. নরেন্দ্রস্বামী, সি. পুত্তারঙ্গশেট্টি, টি. রঘু মূর্তি, রিজওয়ান আরশাদ, রুদ্রাপ্পা লামানি, সন্তোষ লাড, কে.এম. শিবালিঙ্গে গৌড়া, শিবরাজ তাঙ্গাডগি, বিজয়ানন্দ কাশাপ্পানাভার এবং বি.জেড. জামির আহমেদ খান।
শপথগ্রহণের সময় বিভিন্ন মন্ত্রী নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত আদর্শ অনুসারে ঈশ্বর, আল্লাহ, ড. বি.আর. আম্বেদকর, জগজ্যোতি বাসবেশ্বর, বুদ্ধ, বসব বা পরিবারের সদস্যদের নামে শপথ নেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, রিজওয়ান আরশাদ, লক্ষ্মণ সাভাদি, মধু বাঙ্গারাপ্পা, সন্তোষ লাড, বি.জেড. জামির আহমেদ খান-সহ একাধিক অভিজ্ঞ নেতা এই সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। তাঁদের অনেকেই অতীতে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯ জন নতুন মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে কংগ্রেস সরকার দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর মন্ত্রিসভার আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াল। তবে অভ্যন্তরীণ মতভেদের কারণে একটি মন্ত্রিত্বের পদ এখনও শূন্য রাখা হয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের ঘোষণা শীঘ্রই করা হবে বলে জানা গেছে।
























