নয়াদিল্লি, ৩ আগস্ট (আইএএনএস): দেশের ক্যাপটিভ ও বাণিজ্যিক কয়লা খনি থেকে উৎপাদন চলতি বছরের জুলাই মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সোমবার কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রকের প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জুলাইয়ে কয়লা উৎপাদন ৯.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৪.৭৮ মিলিয়ন টনে (এমটি) পৌঁছেছে।
একই সময়ে ক্যাপটিভ ও বাণিজ্যিক কয়লা খনি থেকে মোট ১৭.৪৯ মিলিয়ন টন কয়লা সরবরাহ করা হয়েছে।
কয়লা মন্ত্রকের মতে, এই সাফল্য খনি পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতার উন্নতি এবং খনির সক্ষমতার আরও কার্যকর ব্যবহারের প্রতিফলন। উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে আমদানিকৃত কয়লার ওপর নির্ভরতা কমবে, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট কয়লা উৎপাদনে ক্যাপটিভ ও বাণিজ্যিক খনির অংশীদারিত্ব ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ১০.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২০.২ শতাংশে পৌঁছেছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে বরাদ্দ হওয়া ২১৮টি কয়লা ব্লকের মধ্যে ২০৪টির বরাদ্দ ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়। এরপর স্বচ্ছ নিলামভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা জানায় আদালত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২০ সালের জুন মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক কয়লা খনি নিলাম শুরু হয়।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় এখন পর্যন্ত ১৪ দফা নিলামের মাধ্যমে ১৪১টি বাণিজ্যিক কয়লা খনি বরাদ্দ হয়েছে। এগুলির সম্মিলিত সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ৩৬৬.৩৫ মিলিয়ন টন।
২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ক্যাপটিভ ও বাণিজ্যিক কয়লা খনি মিলিয়ে মোট উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২১০.৪৬ মিলিয়ন টন, যা প্রথমবার ২০০ মিলিয়ন টনের গণ্ডি অতিক্রম করেছে। এক দশক আগে এই উৎপাদন ছিল মাত্র ২৮.৮৩ মিলিয়ন টন। বর্তমানে খনি চালুর অনুমতি পাওয়া ২৩টি বাণিজ্যিক কয়লা খনি থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৬.১২ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদিত হয়েছে।
সরকারের দাবি, এখন পর্যন্ত নিলামে বরাদ্দ হওয়া কয়লা ব্লকগুলি পূর্ণ উৎপাদনে গেলে বছরে প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসবে, প্রায় ৪৮,৭৫৬ কোটি টাকার মূলধনী বিনিয়োগ হবে এবং প্রায় ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
এছাড়া, কয়লা ব্লক থেকে প্রিমিয়াম বাবদ সরকারের আয় ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে ৪৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৫,৫৫৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যার সুফল কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির রাজস্ব ভাণ্ডারে যোগ হচ্ছে।



















