ঢাকা, ৩ আগস্ট (আইএএনএস): তীব্র গ্যাস সংকটের জেরে বাংলাদেশে সিএনজি-চালিত অটোরিকশা ও গণপরিবহনের বড় অংশ রাস্তায় নামতে না পারায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থী, অফিসযাত্রী ও রোগীদের সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্যাসের জন্য চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত জ্বালানি মিলছে না। অনেক চালক জানান, রাত থেকে পরদিন সকাল বা দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তাঁরা প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে বহু সিএনজি-চালিত যান চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, গণপরিবহণের অভাবকে কাজে লাগিয়ে অনেক চালক মিটারে না গিয়ে দ্বিগুণ বা কখনও তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া দাবি করছেন। ঢাকার বনশ্রী এলাকার এক যাত্রী জানান, সাধারণ দিনে সহজেই সিএনজি পাওয়া গেলেও এদিন এক ঘণ্টারও বেশি অপেক্ষা করেও একটি খালি অটোরিকশা পাননি।
পরিবহণ মালিকদের দাবি, গ্যাসের অভাবে তাঁদের অর্ধেকেরও বেশি যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এর ফলে মালিক ও চালক—উভয়েই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২১ জুলাই কক্সবাজারে একটি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডের পর একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর জেরেই দেশের গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
বর্তমানে বাংলাদেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ নেমে এসেছে ২,১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের (এমএমসিএফডি) নিচে, যেখানে গত এক বছরে গড় সরবরাহ ছিল প্রায় ২,৭০০ এমএমসিএফডি। অথচ দেশের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩,৮০০ এমএমসিএফডি।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে গৃহস্থালির রান্নার ক্ষেত্রেও। ঢাকার মিরপুর, বাড্ডা, কলাবাগান, কাফরুল, মোহাম্মদপুর, কাজীপাড়া, পশ্চিম তেজতুরী বাজার ও রামপুরা-সহ একাধিক এলাকায় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিনের পর দিন গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে চুলা জ্বলছে না বা ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
ফলে নিম্নআয়ের বহু পরিবার অস্থায়ী মাটির চুলা তৈরি করে কাঠ দিয়ে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছে। অন্যদিকে, যাঁদের সামর্থ্য রয়েছে, তাঁরা বৈদ্যুতিক কুকার বা এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার শুরু করেছেন, যার ফলে সংসারের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
























