বেঙ্গালুরু, ২ আগস্ট (আইএএনএস): কর্নাটক হাই কোর্ট ২০২১ সালের বিধান পরিষদ নির্বাচনে তাঁর জয় বাতিল করার পর এবং সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বহাল রাখায় বিজেপি নেতা এম. কে. প্রণেশ কর্নাটক বিধান পরিষদের (এমএলসি) সদস্যপদ এবং উপ-সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগত কারণ এবং দলীয় দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে পদত্যাগ করেন।
৩১ জুলাই কর্নাটক হাই কোর্ট চিক্কামাগালুরু স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কেন্দ্র থেকে ২০২১ সালের বিধান পরিষদ নির্বাচনে প্রণেশের জয় বাতিল করে কংগ্রেস প্রার্থী গায়ত্রী শান্তেগৌড়াকে বিজয়ী ঘোষণা করে। একই সঙ্গে আদালত রায়ের অনুলিপি কর্নাটক বিধান পরিষদের চেয়ারম্যান বসবরাজ হোরাট্টির কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এরপর শনিবার বিধান পরিষদের কার্যালয়ে গিয়ে প্রণেশ তাঁর পদত্যাগপত্র চেয়ারম্যান হোরাট্টির হাতে তুলে দেন। সূত্রের দাবি, পদচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা এড়াতেই তিনি স্বেচ্ছায় ইস্তফা দেন।
পদত্যাগপত্রে প্রণেশ জানান, ব্যক্তিগত কারণের পাশাপাশি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক দায়িত্বে আরও বেশি সময় দেওয়ার জন্য তিনি বিধান পরিষদের উপ-সভাপতি এবং সদস্যপদ—দুই পদ থেকেই সরে দাঁড়াচ্ছেন।
বিচারপতি এস. জি. পণ্ডিতের একক বেঞ্চ কংগ্রেস নেত্রী গায়ত্রী শান্তেগৌড়ার দায়ের করা নির্বাচনী মামলার শুনানিতে এই রায় দেয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, মুদিগেরে, এন. আর. পুরা, শৃঙ্গেরী এবং কোপ্পা টাউন পঞ্চায়েতের ১২ জন মনোনীত সদস্যের ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করেই নির্বাচন কমিশন প্রণেশকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিল।
আদালত ওই ১২টি ভোট বাতিল করে পুনর্গণনার নির্দেশ দেয়। পুনর্গণনায় গায়ত্রী শান্তেগৌড়া ১,১৮৩টি ভোট পান, আর প্রণেশের ঝুলিতে পড়ে ১,১৭৪টি ভোট। সংশোধিত ফলাফলের ভিত্তিতে আদালত গায়ত্রী শান্তেগৌড়াকেই বৈধভাবে নির্বাচিত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।
ফলে এখন থেকে চিক্কামাগালুরু স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন গায়ত্রী শান্তেগৌড়া। তাঁর মেয়াদের প্রায় দেড় বছর বাকি রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে প্রণেশ ১,১৮২ ভোট এবং গায়ত্রী শান্তেগৌড়া ১,১৭৬ ভোট পেয়েছিলেন। মাত্র ছয় ভোটের ব্যবধানে প্রণেশকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল।
পরে গায়ত্রী শান্তেগৌড়া আদালতের দ্বারস্থ হয়ে দাবি করেন, স্থানীয় সংস্থার মনোনীত সদস্যদের এই ধরনের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার নেই। কর্নাটক হাই কোর্ট তাঁর দাবি মেনে নেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রণেশ সুপ্রিম কোর্টে গেলেও শীর্ষ আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। এর ফলে হাই কোর্টের রায়ই চূড়ান্ত বলে বহাল থাকে এবং প্রণেশের নির্বাচন বাতিল হওয়ার পাশাপাশি তাঁর উপ-সভাপতির পদও কার্যত খালি হয়ে যায়।


















