গুয়াহাটি, ১ অগস্ট (আইএএনএস): অসমে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি জানান, দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে রাজ্যজুড়ে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে ১,৮১১টি করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে বন্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছে ত্রাণ, পুনর্বাসন এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে রাজ্য সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকারি বন্যা বুলেটিন অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অসমের ২৫টি জেলা, ৭৭টি রাজস্ব চক্র এবং ২,২৫১টি গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১১ লক্ষ ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে ২১৮টি ত্রাণ শিবিরে ৭১,৮৮৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
বুলেটিনে জানানো হয়েছে, চলতি বন্যা মৌসুমে বন্যা-সংক্রান্ত ঘটনায় মোট ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে শিবসাগর জেলায়। এছাড়া চরাইদেওতে ২১ জন, যোরহাটে ৯ জন, ধেমাজিতে ৩ জন, গোলাঘাটে ৩ জন, কার্বি আংলংয়ে ২ জন এবং শোণিতপুর ও কামরূপে একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন।
এছাড়া শিবসাগর ও ধেমাজি জেলা থেকে দু’জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে আবাসনও। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২,৫৩০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং ৯,৬৬৮টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ২৯,৯৮৫ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, দুর্গতদের দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে।
উল্লেখ্য, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে শুরু হওয়া এবারের বন্যায় উজান অসম, মধ্য অসম এবং পশ্চিম অসমের একাধিক জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার জেরে অবকাঠামো, কৃষিজমি এবং বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।



















