বিশাখাপত্তনম, ১ আগস্ট (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়নগরম জেলার ভোগাপুরমে নির্মিত অলুরি সীতারাম রাজু আন্তর্জাতিক গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরের উদ্বোধন করেন। বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবতরণের পর তিনি নতুন যাত্রী টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন করেন এবং সেখানকার বিভিন্ন পরিকাঠামো ঘুরে দেখেন।
এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্যপাল এস. আবদুল নাজির, মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু, উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ, কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে. রাম মোহন নাইডু এবং জিএমআর গোষ্ঠীর শীর্ষ আধিকারিকরা। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরের আধুনিক বৈশিষ্ট্য ও প্রযুক্তিগত সুবিধাগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালটি অন্ধ্রপ্রদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং শিল্পকলাকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে। প্রবেশদ্বারে প্রদর্শিত বৃহৎ এটিকোপ্পাকা শিল্পকর্মও প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে পরিদর্শন করেন।
বিমানবন্দর থেকে জনসভাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ১৩,৫০০ আদিবাসী মহিলা ঐতিহ্যবাহী ‘ধিমসা’ নৃত্য পরিবেশন করেন। সরকারি সূত্রের দাবি, এই পরিবেশনা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে। আদিবাসী মহিলাদের বর্ণময় নৃত্য দেখে প্রধানমন্ত্রী হাততালি দিয়ে তাঁদের উৎসাহিত করেন।
পরে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ভোগাপুরমে ১৭,৯০০ কোটিরও বেশি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, শিলান্যাস ও জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করবেন। পাশাপাশি তিনি জনসভায় ভাষণও দেন।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলে ৫,৬৪০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বছরে ৬০ লক্ষ যাত্রী পরিষেবা দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে তৈরি হয়েছে।
সরকারের আশা, এই বিমানবন্দর অন্ধ্রপ্রদেশে পর্যটন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং রাজ্যের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন যাত্রী পরিষেবা নিশ্চিত করতে টার্মিনাল ভবনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। বিমানবন্দরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিল্ডিং ইনফরমেশন মডেলিং (বিআইএম), এয়ারসাইড ৪.০ প্রযুক্তি, এয়ারপোর্ট প্রেডিক্টিভ অপারেশনস সেন্টার (এপিওসি), বায়োমেট্রিক যাত্রী প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম এবং বুদ্ধিমান অপারেশন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি, যাত্রী নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



















