নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ জুলাই: পরিবেশ রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং সংরক্ষণের চর্চা শুরু হতে হবে প্রতিটি ব্যক্তি, পরিবার ও সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে। আজ সকালে আগরতলার হেরিটেজ পার্কে বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাঙ্গু একথা বলেন। এ সময় তিনি পার্ক প্রাঙ্গণে একটি নাগেশ্বর গাছের চারা রোপণ করেন।
রাজ্যপাল বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য ত্রিপুরার সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। ত্রিপুরার বনসম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে রাজ্যপাল বলেন, রাজ্যের বনভূমি শুধু সবুজের আবরণ নয়, এটি ত্রিপুরার প্রাণশক্তি। প্রায় ১৫ লক্ষ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বনভূমি গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনজাতি সম্প্রদায় ও বননির্ভর মানুষের জীবিকার উৎস। রাজ্যপাল আরও বলেন, শুধু পরিবেশ সংরক্ষণ নয়, এখন সময় এসেছে পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাওয়ার। এ লক্ষ্যে ত্রিপুরার জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক রাজ্য কর্মপরিকল্পনা (এসএপিসিসি)-তে জলবায়ু-সহনশীল কৃষিকে মূলধারায় আনতে হবে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা এবং বিকেন্দ্রীভূত সম্পদকেন্দ্র গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন, যাতে প্রতিটি কৃষক ও প্রতিটি গ্রামের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও উপকরণ পেতে পারেন। রাজ্যপাল নাগরিকদের নিজ নিজ এলাকায় দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানোর আহ্বান জানান, যাতে পাখি ও কীটপতঙ্গের আবাসস্থল তৈরি হয়, মাটিক্ষয় ও ভূমির অবক্ষয় রোধ করা যায়, বৃষ্টির জল সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রাণীসম্পদ রক্ষা করা যায় এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে ‘রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল’-এর নীতি অনুসরণ করা যায়।
অনুষ্ঠানে এছাড়া বক্তব্য রাখেন বন দপ্তরের প্রধান সচিব, পিসিসিএফ ও হেড অব ফরেস্ট ফোর্স রবীন্দ্র কুমার সামল। তিনি রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় বন দপ্তরের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা পার্কস অ্যান্ড গার্ডেন সোসাইটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্রসাদা রাও ভাড্ডারাপু। ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন ত্রিপুরা পার্কস অ্যান্ড গার্ডেন সোসাইটির অতিরিক্ত পরিচালক সঞ্জয় মজুমদার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্ল্যান্টেশন কর্পোরেশনের (টিএফডিপিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পিসিসিএফ প্রবীণ এল, আগরওয়াল, ড. কে. শশীকুমার, পিসিসিএফ (প্রশাসন, জনসংযোগ ও সুরক্ষা), প্রধান বন্যপ্রানী সংরক্ষক এবং ত্রিপুরা জীববৈচিত্র্য বোর্ডের সদস্য-সচিব চৈতন্য মূর্তি প্রমুখ।


















