গুয়াহাটি, ২৭ জুলাই (আইএএনএস): অসমের কাছাড় জেলার একটি রড উৎপাদনকারী কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে চার শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় কারখানার মালিক-সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে তদন্ত জোরদার করার পর এই গ্রেফতারি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদারবন্দ বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পাংগ্রাম এলাকায় অবস্থিত কারখানাটির মালিক রাকেশ কুমার সুরানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি চারজনও কারখানার পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানতে ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (এফএসএল) একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।
রবিবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ কারখানার প্রসেসিং ইউনিটে গলিত ধাতু বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে আশপাশের এলাকায় শব্দ শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণে মৃতদের দেহ মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়।
মৃতদের পরিচয় অ্যাপু বরাইক, কিরণ মুন্ডা, শ্যামল গৌড় এবং প্রতিবেশী ত্রিপুরার আগরতলার বাসিন্দা সাগর নাথ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করার পর ময়নাতদন্তের জন্য দেহ পাঠানো হয়।
ঘটনার পরই পুলিশ, দমকল ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করেন। কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, আর সামান্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অসম সরকার মৃত চার শ্রমিকের পরিবারের জন্য মাথাপিছু ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে। উদারবন্দের বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা এবং কাছাড়ের জেলা শাসক রাহুল কুমার গুপ্ত নিহতদের পরিবারের হাতে এই আর্থিক সহায়তা তুলে দেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এর আগে অসমের মন্ত্রী কৌশিক রায় জানিয়েছিলেন, বিস্ফোরণের কারণ এবং কারখানায় বাধ্যতামূলক শিল্প নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত, পুলিশি তদন্ত এবং শ্রম দফতরের পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনও কারখানায় থাকা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগেও কারখানায় ছোটখাটো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও তা কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। নিহত এক শ্রমিকের পরিবারের অভিযোগ, রবিবারের দুর্ঘটনার ভয়াবহতা প্রথমে গোপন করার চেষ্টা করেছিল কারখানা কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযোগগুলিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। শিল্প নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন বা অবহেলার প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনাকে ঘিরে অসমে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং শিল্প সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকর করার বিষয়টি ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।



















