নয়াদিল্লি/সীতামঢ়ি/গান্ধীনগর, ২৬ জুলাই (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রবিবার তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৬তম পর্বে পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় শিল্পের প্রসার এবং জনঅংশগ্রহণমূলক উদ্যোগের একাধিক উদাহরণ তুলে ধরেন। বিহারের সীতামঢ়ির একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার প্রকল্প, গুজরাটের আহমেদাবাদে রেকর্ড গড়া বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং দেশবাসীকে ‘ভোকাল ফর লোকাল’ হওয়ার আহ্বান ছিল তাঁর বক্তব্যের অন্যতম আকর্ষণ।
প্রধানমন্ত্রী সীতামঢ়ির ‘ওয়েস্ট টু ওয়েলথ’ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সেখানে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বেঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি বেঞ্চ তৈরিতে প্রায় ৪০ কেজি প্লাস্টিক ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেগুলি সরকারি স্কুল, পার্ক ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে বসানো হচ্ছে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ ‘রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল’-এর ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসার পর সীতামঢ়ির জেলা আধিকারিকরাও প্রকল্পটির পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরেন। জেলা ব্যবস্থাপক রাঘব ঝা জানান, বাজপট্টির প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রটি জেলার প্রধান প্রসেসিং ইউনিট হিসেবে কাজ করছে। জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক এখানে এনে পরিষ্কার, বাছাই ও পুনর্ব্যবহার করা হয়।
তিনি বলেন, “প্লাস্টিক স্বাভাবিকভাবে নষ্ট হয় না, ফলে দূষণ সৃষ্টি করে। তাই এগুলিকে পুনর্ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে। এই উদ্যোগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পূর্ণ সহযোগিতা মিলছে।”
মুখিয়া প্রতিনিধি রণজিৎ সিং বলেন, “মানুষ যে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ফেলে দিত, তা এখন সংগ্রহ করে বেঞ্চসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”
সরপঞ্চ প্রতিনিধি আনওয়ারুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা সাধারণ মানুষকে এই উদ্যোগে আরও উৎসাহিত করবে। ওয়ার্ড সদস্য দেবেন্দ্র সাহ জানান, আগে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা হলেও এখন প্লাস্টিক আলাদা করে সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে পরিচ্ছন্নতা অনেক বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জেলার ডুমরা, রিগা, বাজপট্টি এবং রুন্নিসাইদপুর ব্লক থেকে প্রায় ৮,০০০ কেজি প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৪,০০০ কেজি প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার করে ৮৫টি বেঞ্চ তৈরি করা হয়েছে।
একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আহমেদাবাদের ভদাজ এলাকায় ‘এক পেড় মা কে নাম’ অভিযানের আওতায় এক ঘণ্টায় সাড়ে তিন লক্ষেরও বেশি চারা রোপণের বিশ্বরেকর্ডেরও প্রশংসা করেন। তিনি জানান, ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন এবং এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে একটি ঘন শহুরে অরণ্যে পরিণত হবে। এই কৃতিত্ব ইতিমধ্যেই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ স্থান পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে অন্তত একটি গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করার আহ্বান জানান। গান্ধীনগরে মহাকালেশ্বর মন্দির প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসে ‘মন কি বাত’ শোনেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল। পরে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, আহমেদাবাদের নাগরিকদের এই অসাধারণ উদ্যোগ জনঅংশগ্রহণের এক অনন্য উদাহরণ এবং সকলের উচিত ‘এক পেড় মা কে নাম’ অভিযানে অংশ নেওয়া।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ৭ আগস্ট পালিত হতে চলা জাতীয় হ্যান্ডলুম দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে হ্যান্ডলুম, খাদি ও হস্তশিল্পের পণ্য কেনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি হ্যান্ডলুম বস্ত্র একটি অঞ্চল, একটি সম্প্রদায় এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যের গল্প বহন করে।
তিনি জানান, গত ১২ বছরে খাদি পণ্যের বিক্রি ছয় গুণ বেড়ে প্রায় ৮,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আসন্ন উৎসবের মরশুমে অন্তত একটি খাদি, হ্যান্ডলুম বা হস্তশিল্পের পণ্য কেনার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে আবেদন জানান।
প্রধানমন্ত্রী ভারতের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র নিয়েও কথা বলেন। তিনি ত্রিপুরার উপজাতি সমাজে ব্যবহৃত চংপ্রেং বাদ্যযন্ত্রের উল্লেখ করে বলেন, সুরজ কুমার দেববর্মা এই প্রায় হারিয়ে যেতে বসা বাদ্যযন্ত্রকে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ককবরক লোকসংগীত, বাউল ও বাংলা লোকগানের সঙ্গে চংপ্রেং পরিবেশন করে তিনি ঐতিহ্যকে নতুন করে জীবন্ত করে তুলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে নিজেদের এলাকার ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র সম্পর্কে সামাজিক মাধ্যমে তথ্য ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে।
























