গুয়াহাটি, ২৬ জুলাই (আইএএনএস): অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রবিবার জানিয়েছেন, রাজ্যের আপার অসমের বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে এবং একাধিক প্লাবিত এলাকায় বন্যার জল নামতে শুরু করেছে। তবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পরিস্থিতি না ফেরা পর্যন্ত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
গুয়াহাটির আজারা এলাকায় এক জনসভায় যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’ শোনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিশেষ করে শিবসাগর জেলার নাজিরা এলাকার পরিস্থিতির ওপর প্রশাসন নিবিড় নজর রাখছে। এই অঞ্চলটি বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে অন্যতম।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত দলগুলি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে নিরবচ্ছিন্নভাবে পানীয় জল, খাদ্য, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “বন্যার জল ধীরে ধীরে নামছে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে যাতে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামে সময়মতো ত্রাণ পৌঁছে যায়, সে জন্য প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, আগামী এক বা দু’দিনের মধ্যেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে বন্যাকবলিত এলাকাগুলি পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে গিয়ে তিনি ক্ষয়ক্ষতির বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করবেন এবং উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “আগামী এক-দু’দিনের মধ্যে আমি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করব এবং চলমান ত্রাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি সরেজমিনে দেখব।”
রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই বন্যাপীড়িত জেলাগুলিতে ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীবাঁধগুলির উপর নিয়মিত নজরদারি, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং জলবন্দি মানুষদের জরুরি সহায়তা প্রদানের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
একইসঙ্গে নদীর জলস্তর ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপরও প্রশাসন কড়া নজর রাখছে, যাতে নতুন কোনও পরিস্থিতির দ্রুত মোকাবিলা করা যায়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজে স্থানীয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।



















