আগরতলা, ২৫ জুলাই: কোনাবন এলাকা থেকে দুইজন রোহিঙ্গাকে নিয়ে আগরতলা রেলস্টেশনের উদ্দেশ্যে যাওয়ার অভিযোগে এক অটোচালককে ধাওয়া করে আটক করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শনিবার মধুপুর হাসপাতাল চৌমুহনী এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আটক অটোচালকের নাম রতন দাস। তাঁর বাড়ি আমতলী থানার অন্তর্গত বিবেকনগর এলাকায়। আটক অটোর নম্বর টিআর০১ই৪৪৯৩।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোনাবন এলাকা থেকে দুইজন রোহিঙ্গাকে নিয়ে রতন দাসের অটোটি মধুপুর হয়ে আগরতলা রেলস্টেশনের দিকে যাচ্ছিল বলে বিএসএফের কাছে গোপন সূত্রে খবর ছিল। অভিযোগ, কোনাবন এলাকায় বিএসএফ জওয়ানরা অটোটি থামানোর সংকেত দিলে চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। এরপর বিএসএফ প্রায় আট থেকে দশ কিলোমিটার ধাওয়া করে মধুপুর হাসপাতাল চৌমুহনী এলাকায় অটোটি আটক করে।
অভিযোগ, বিএসএফ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অটো থেকে ওই দুই রোহিঙ্গা পালিয়ে যায় বা তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিএসএফ অটোচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় তাকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে মধুপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রতন দাসকে বিএসএফের কাছ থেকে উদ্ধার করে অটোসহ থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার পর মধুপুর হাসপাতাল চৌমুহনী এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড় জমে এবং কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর মধুপুর হাসপাতাল চৌমুহনী সংলগ্ন জঙ্গল ও আশপাশের বিভিন্ন বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও অভিযুক্ত দুই রোহিঙ্গার কোনো সন্ধান মেলেনি।
এদিকে, স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাধানগর, কোনাবন ও হরিহরদুলা সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চোরাই মোটরসাইকেল ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে আসছে। তাঁদের দাবি, কিছু দালালচক্রের মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলেও বিষয়টি রোধে আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।



















