ইম্ফল, ২৫ জুলাই (আইএএনএস): মণিপুরের চুরাচাঁদপুর জেলায় মাদক পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের কাছে মায়ানমারে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠানোর অভিযোগে ৫৬ বছর বয়সি এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে মণিপুর পুলিশ। অন্যদিকে, রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) মুকেশ সিং ভারত-মায়ানমার সীমান্তবর্তী তেংনৌপাল জেলা পরিদর্শন করে সীমান্ত নিরাপত্তা, পুলিশি প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় পর্যালোচনা করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চুরাচাঁদপুর থানায় মাদকদ্রব্য ও মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ আইন (এনডিপিএস), ১৯৮৫-এর অধীনে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তে নিউ লামকা এলাকার বাসিন্দা জেন্নগাইহনিয়াং (৫৬)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ২৮.৭৮ লক্ষ টাকারও বেশি নগদ উদ্ধার হয়েছে, যা মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের অর্থ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, অভিযুক্ত মহিলা মায়ানমারে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠানোর কাজে জড়িত ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে পাঁচটি নগদ লেনদেনের রেজিস্টার এবং একটি নোট গোনার মেশিনও উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চুরাচাঁদপুর জেলার একদিকে মিজোরামের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য সীমান্ত এবং অন্যদিকে মায়ানমারের সঙ্গে অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
এদিকে, পৃথক অভিযানে ইম্ফল পশ্চিম জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১২টি পিস্তল ও ম্যাগাজিন, চারটি রাইফেল, দুটি পরিবর্তিত .৩০৩ রাইফেল, চারটি বোল্ট-অ্যাকশন একনলা বন্দুক, একটি চীনা গ্রেনেড-সহ চারটি হ্যান্ড গ্রেনেড, তিনটি ডিটোনেটর, বিপুল পরিমাণ তাজা ও ব্যবহৃত গুলি, কার্তুজ, ম্যাগাজিন, সামরিক পোশাক, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, ম্যাগাজিন পাউচ এবং ওয়্যারলেস যোগাযোগ সরঞ্জাম।
এছাড়া, কাকচিং জেলার ওয়াংগু সান্দাংখং এলাকা থেকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন কাংলেই ইয়াওল কান্না লুপ (কেওয়াইকেএল)-এর সক্রিয় সদস্য মৈরাংথেম গান্ধী ওরফে লোইংবা সিং (১৯)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে, ডিজিপি মুকেশ সিং অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিচালক (আইন-শৃঙ্খলা)-কে সঙ্গে নিয়ে তেংনৌপাল জেলা পুলিশ কার্যালয়ে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পুলিশি ব্যবস্থাপনা নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন।
জেলা পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান, অপরাধমূলক মামলার দ্রুত তদন্ত, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সব নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
মোরেহ সফরকালে ডিজিপি তামিল, কুকি, নেপালি ও মেইতেই পাঙ্গাল (মুসলিম) সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বহু দশক ধরে এই সম্প্রদায়গুলির মানুষ সীমান্ত শহর মোরেহে বসবাস করছেন।
তিনি অসম রাইফেলসের বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট, অসম রাইফেলস ও মণিপুর পুলিশ কমান্ডোদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এর পাশাপাশি মোরেহ সীমান্তের গেট নম্বর ১ এবং গেট নম্বর ২-এ গিয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও মোতায়েনও পর্যালোচনা করেন ডিজিপি।
ফেরার পথে তিনি ক্বাথা গ্রাম পরিদর্শন করে স্থানীয় মেইতেই গ্রামবাসী এবং জেলা পুলিশ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) ও অসম রাইফেলসের কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পুলিশের বক্তব্য, এই সফরের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মণিপুর পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর অঙ্গীকার আরও দৃঢ় হয়েছে।


















