নয়াদিল্লি, ২৩ জুলাই (আইএএনএস): নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে বিরোধীদের প্রতিবাদ আরও তীব্র হল রাজধানীতে। বৃহস্পতিবার কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং ইন্ডি জোটের সাংসদরা তিস জানুয়ারি মার্গে অবস্থিত গান্ধী স্মৃতিতে গিয়ে প্রতীকী বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
নিট বিতর্কের জেরে আত্মহত্যা করা ছাত্রছাত্রীদের স্মরণ এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভে আহত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রাহুল গান্ধী তাঁর পরিচিত সাদা টি-শার্ট পরে হাতে জাতীয় পতাকা ও সংবিধানের কপি নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। অন্যদিকে, উপস্থিত সাংসদরা মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে এক ধরনের মোমবাতি মিছিলের আবহ তৈরি করেন।
বিরোধীদের দাবি, দেশের তরুণ পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে তাঁরা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জবাবদিহির দাবি জানান।
এর আগে এদিন সকালে বিরোধী সাংসদদের বৈঠককে ঘিরে রাহুল গান্ধীর বাসভবনের বাইরে ব্যারিকেড বসানো হয়। বৈঠকের পর রাহুল গান্ধী ঘোষণা করেন, তাঁরা গান্ধী স্মৃতির উদ্দেশে পদযাত্রা করবেন। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ অন্যান্য সাংসদদের নিয়ে তিনটি বাসে করে তাঁরা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছন এবং সেখানে আয়োজিত আলোক প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে যোগ দেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, এই মুহূর্তে ইন্ডি জোটের সাংসদ ও নেতারা শান্তিপূর্ণভাবে তিস জানুয়ারি মার্গের গান্ধী স্মৃতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর যেসব ছাত্রছাত্রীকে হারিয়েছি, তাঁদের স্মরণ করতেই আমরা যাচ্ছি। যারা ন্যায্য বিচার ও জবাবদিহির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে আহত হয়েছেন, তাঁদের পাশেও আমরা আছি।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী জানান, তাঁদের প্রথমে ইন্ডিয়া গেটে মোমবাতি মিছিল করার পরিকল্পনা ছিল। তবে পুলিশ প্রশাসনের তরফে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, তাঁদের বাস কিছু সময়ের জন্য আটকে দেওয়া হলেও পরে গান্ধী স্মৃতির দিকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
বাসের ভিতর থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করে রাহুল গান্ধী লেখেন, ভারতের ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়ানো থেকে কেউ আমাদের আটকাতে পারবে না।
বিরোধীরা জানিয়েছে, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য সরকারের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত আরও জোরদার হচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


















