নয়াদিল্লি, ২৩ জুলাই (আইএএনএস): রাজধানীতে সিজেপি (ককরোচ জনতা পার্টি)-র নেতৃত্বে চলা ছাত্র আন্দোলন ঘিরে আম আদমি পার্টি (আপ) ও কংগ্রেসের মধ্যে মতবিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ‘সমান্তরাল আন্দোলন’ গড়ে তুলে সিজেপি-র আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে।
সৌরভ ভরদ্বাজের দাবি, কংগ্রেসের উদ্দেশ্য ছিল জন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনের গুরুত্ব কমিয়ে নিজেদের ছাত্রদের সহানুভূতিশীল হিসেবে তুলে ধরা। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া ঘনিষ্ঠ ‘রিল নির্মাতা’, ‘ইনফ্লুয়েন্সার’ এবং ‘ট্রোল’দের মাধ্যমে জন্তর মন্তরের ভিডিও ছড়িয়ে আন্দোলনের ফোকাস ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
তিনি কটাক্ষ করে বলেন, কংগ্রেসের এই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে যে গণ-আন্দোলনের চেষ্টা হয়েছিল, তা ভেস্তে গিয়ে আবার প্রথম পর্যায়ে ফিরে এসেছে।
ভরদ্বাজের অভিযোগ, কংগ্রেসের একমাত্র লক্ষ্য ছিল সিজেপি এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেকে কটাক্ষ করা, তাঁদের আন্দোলনকে ‘সোশ্যাল মিডিয়ার বুদবুদ’ বলে খারিজ করা এবং পরে রাহুল গান্ধীকে নায়ক হিসেবে তুলে ধরতে ‘কনসার্টের মতো অনুষ্ঠান’ আয়োজন করা।
তিনি বলেন, হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী জন্তর মন্তরে সিজেপি-র আন্দোলনের সমর্থনে জড়ো হলেও কংগ্রেস সেখানে পাশে না দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে আলাদা কর্মসূচি নিয়ে মানুষের ক্ষোভকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে।
এর আগেও আপ অভিযোগ করেছিল, বিজেপি ও কংগ্রেস ‘যুগলবন্দি’ করে সিজেপি-র আন্দোলনের গুরুত্ব কমানোর চেষ্টা করছে। দলের দাবি, সিজেপি-র আন্দোলনে সরকার কঠোর অবস্থান নিলেও গান্ধী পরিবারের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে অবস্থান কর্মসূচির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, আন্দোলন নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয় সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর মন্তব্য ঘিরে। একটি টেলিভিশন বিতর্কে তিনি রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভকে “আন্তরিক নয় এবং সুযোগসন্ধানী” বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে নয়, জন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনে অংশ নিলে সেটাই অর্থবহ হতো। এখন দেশের যুবসমাজ সচেতন, তাদের আর সহজে বিভ্রান্ত করা যাবে না।”
এরপর কংগ্রেসের এক পরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া সমর্থক সোনম ওয়াংচুক ও তাঁর স্ত্রীকে আরএসএসের ‘এজেন্ট’ বলে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। সেই ঘটনার জেরেই সৌরভ ভরদ্বাজ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনকে ‘পথভ্রষ্ট ও অস্থির করার’ অভিযোগ তোলেন।
যদিও কংগ্রেসপন্থী মহলও পাল্টা জবাব দিয়ে সৌরভ ভরদ্বাজকে আপ ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দেয় এবং তাঁকে “বিবেচক মানুষ” বলে মন্তব্য করে।



















