পাটনা, ২৩ জুলাই (আইএএনএস): পাটনায় প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ছাত্র বিক্ষোভ এবং তার পর পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিহার বিধানসভা। শুরু থেকেই শাসক জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) এবং বিরোধীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগেই বিজেপির এক বিধায়ক বিষয়টি উত্থাপন করে দাবি করেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই প্রকৃত ছাত্র ছিলেন না, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আন্দোলনকারী ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন তিনি-সহ একাধিক বিজেপি বিধায়কের উপর প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করা প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও হিংসা ও ভাঙচুর কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর দাবি, কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি বিজেপি নেতা ও বিধায়কদের গাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিহারের মন্ত্রী শ্রবণ কুমারও বলেন, প্রতিবাদ ও দাবি জানানো গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও বর্তমান আন্দোলন ছাত্রদের নেতৃত্বে নয়, বরং এটি পরিকল্পিত ও রাজনৈতিকভাবে প্ররোচিত। তাঁর অভিযোগ, আরজেডি ও কংগ্রেসের নেতাদের উস্কানিতেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রতিবাদ অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত। গণতন্ত্রে প্রত্যেকের নিজের মত প্রকাশ ও অধিকার আদায়ের অধিকার রয়েছে। কিন্তু বুধবার পাটনায় আরজেডি ও কংগ্রেস যা করেছে, তা নিন্দনীয়। বিহারে আইন স্বাধীনভাবে কাজ করে। এই সরকার কাউকে ফাঁসায় না, আবার কাউকেও আড়ালও করে না।”
শাসকপক্ষের এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধী বিধায়কেরা। তাঁদের অভিযোগ, ছাত্রদের কণ্ঠরোধ করতে সরকার পুলিশি শক্তি ব্যবহার করেছে এবং লাঠিচার্জের জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে। এই নিয়ে বিধানসভায় ব্যাপক হইচই শুরু হলে অধিবেশনের কাজও ব্যাহত হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিধানসভার স্পিকার প্রেম কুমার হস্তক্ষেপ করে উভয় পক্ষকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনস্বার্থে বিষয় উত্থাপনের অধিকার সকল বিধায়কের থাকলেও তা শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে হওয়া উচিত, যাতে বিধানসভার কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চলতে পারে।
এদিকে, বর্ষাকালীন অধিবেশনে যোগ দিতে এসে বিরোধী বিধায়কেরা বিধানসভা চত্বরে ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। “বিজেপি হটাও, শিক্ষা বাঁচাও” স্লোগান তুলে তারা বিধানসভার বাইরে অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও তোলেন তাঁরা।
আরজেডির প্রবীণ বিধায়ক অলোক মেহতা বলেন, “সরকার ছাত্রদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে এবং তাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করেছে। প্রশ্নফাঁসের তদন্তে সরকার এগোচ্ছে না। প্রশ্নফাঁস ও ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ—দুই ক্ষেত্রেই সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট এবং তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।”



















