চিসিনাউ, ২০ জুলাই (আইএএনএস): বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারত-মলদোভা সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু বলেছেন, স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার অভিন্ন মূল্যবোধই দুই গণতান্ত্রিক দেশকে একসূত্রে বেঁধেছে।
সোমবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে সান্দু বলেন, “বিশ্ব যখন ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে, তখন মলদোভা সহযোগিতা এবং বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্বের পথ বেছে নিয়েছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কও সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতেই গড়ে উঠছে। একটি বৃহৎ এবং একটি ছোট গণতন্ত্র হলেও স্বাধীনতা, মর্যাদা ও মানুষের স্বার্থে কাজ করার মূল্যবোধ আমাদের এক করেছে। মলদোভায় ভারত সবসময়ই একজন নির্ভরযোগ্য বন্ধু খুঁজে পাবে।”
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরকে মলদোভার জন্য ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন সান্দু। তিনি জানান, কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৩৪ বছর পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় রাষ্ট্রপ্রধান মলদোভা সফর করছেন। তাঁর মতে, এই সফর দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বের প্রতীক।
সান্দু বলেন, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও গতিশীল অর্থনীতি। তিনি জানান, ২০২৪ সালে ২১ বছর পর ভারত ও মলদোভার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক পরামর্শ বৈঠক পুনরায় শুরু হয়েছে এবং নয়াদিল্লিতে মলদোভার দূতাবাসও উদ্বোধন করা হয়েছে, যার ফলে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে।
দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের সম্পর্কের সুফল যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যেই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ‘মলদোভা-ইন্ডিয়া বিজনেস ফোরাম’-এর মাধ্যমে দুই দেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভারত-মলদোভা জনসংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে সান্দু বলেন, বর্তমানে প্রায় ১,৪০০ ভারতীয় ছাত্র মলদোভার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন, যার মধ্যে অধিকাংশই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি, সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ উৎপাদনে ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো এবং মলদোভায় ওষুধ শিল্পে ভারতীয় বিনিয়োগ আকর্ষণের আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উপহার হিসেবে মহাত্মা গান্ধীর আবক্ষ মূর্তি পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাইয়া সান্দু বলেন, “মহাত্মা গান্ধীর কাছ থেকে আমরা শিখেছি, প্রকৃত শান্তি শক্তিশালীদের চাপিয়ে দেওয়া নীরবতা নয়, বরং স্বাধীন রাষ্ট্রগুলির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া।”



















