আগরতলা, ১৮ জুলাই: বড়দোয়ালি উচ্চ মাধ্যমিক (দ্বাদশ শ্রেণি) বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক, বর্তমান স্কুল ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) সভাপতি এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মানিক লাল দত্ত(৭৮) শনিবার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অসুস্থ অবস্থায় তিনি আগরতলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর মরদেহ প্রথমে ত্রিপুরা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (টিসিএ)-এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি টিসিএ-র আজীবন সদস্য ছিলেন। পরে বরদোয়ালি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বরদোয়ালির মিলন সংঘ এলাকায় অবস্থিত তাঁর পৈতৃক বাড়িতে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হলে শিক্ষক, ছাত্র, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসী তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা তাঁর পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে প্রয়াত শিক্ষকের প্রতি ফুলের তোড়া অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানিক লাল দত্ত একজন জনপ্রিয় শিক্ষক ও নিবেদিতপ্রাণ সাংস্কৃতিক কর্মী ছিলেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সমাজসেবায় তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এছাড়াও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা, টাউন বড়দোয়ালি কেন্দ্রের বিধায়ক তথা কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডব্লিউসি) সদস্য সুদীপ রায়বর্মণ প্রয়াতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরবর্তীতে তাঁর মরদেহ মৌচাক ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘদিন তিনি এই ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ক্লাব সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পরে বটতলা শ্মশানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নয়, পারিবারিক আচার-অনুষ্ঠান মেনে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালে প্রয়াত চিকিৎসক ডা. মনোরঞ্জন দত্তের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মানিক লাল দত্ত। বরদোয়ালি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মহারাজা বীর বিক্রম (এমবিবি) কলেজে পড়াশোনা শেষে ১৯৭৪ সালে বরদোয়ালি বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। আগরতলার জগন্নাথবাড়ির উন্নয়ন, মেলাঘর এলাকায় একটি আশ্রম নির্মাণে আর্থিক সহায়তা এবং অসংখ্য দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
এদিকে আগরতলা পুর নিগমের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কর্পোরেটর সম্পা সরকার চৌধুরী এবং প্রাক্তন কর্পোরেটর তথা বিজেপি নেতা জয়ন্ত চৌধুরী প্রয়াত মানিক লাল দত্তের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শেষকৃত্যসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় তাঁরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন।
























