অভিজিৎ রায় চৌধুরী
নয়াদিল্লি, ১৬ জুলাই : সংসদে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন নিশ্চিত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে কেন্দ্র সরকার আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনের কার্যসূচি থেকে সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিলকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিলের লক্ষ্য ছিল লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলির আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং ২০২৮ সাল থেকে নারী সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার পথ সুগম করা।
আগামী ২০ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারি সূত্রের দাবি, সংবিধান সংশোধনী বিলের পরিবর্তে এবারের অধিবেশনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬, যার মাধ্যমে ২০১০ সালের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলটি চলতি বছরের ২৫ মার্চ লোকসভায় উত্থাপিত হয়েছিল।
এছাড়াও কার্যসূচীতে রয়েছে ‘বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল, ২০২৫’, যেখানে উচ্চশিক্ষায় উৎকর্ষ, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে একটি হায়ার এডুকেশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির জন্য স্বচ্ছ স্বীকৃতি ব্যবস্থা এবং অধিকতর প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসনের ব্যবস্থাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সরকার রেজিস্ট্রেশন অব বার্থস অ্যান্ড ডেথস (সংশোধনী) বিল, ২০২৬-ও বিবেচনার জন্য আনছে। এই বিলে ১৯৬৯ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইনের ১৩(৩) ধারার আওতায় বিলম্বিত নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর বিধান আনার প্রস্তাব রয়েছে।
অধিবেশনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল হিসেবে প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ তালিকাভুক্ত হয়েছে। এই বিলের মাধ্যমে জাতীয় প্রতীক ও জাতীয় সম্মানের অবমাননা সংক্রান্ত ১৯৭১ সালের আইনে সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিলের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এই প্রস্তাবিত আইনটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নারী সংরক্ষণ কার্যকর করা এবং আগামী পর্যায়ের নির্বাচনী সীমা পুনর্নির্ধারণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে বিবেচিত হচ্ছে।



















