কলকাতা, ১৫ জুলাই (আইএএনএস): ২০২৪ সালের আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া চিকিৎসক এবং নাগরিক সমাজের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
নবান্ন সূত্রে খবর, কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে গঠিত নতুন বিচারবিভাগীয় কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ করা হবে। কমিশন খতিয়ে দেখবে, আন্দোলন দমন বা প্রতিবাদকারীদের হয়রানির উদ্দেশ্যে কোন কোন ক্ষেত্রে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
একইসঙ্গে পুলিশ প্রশাসন ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট গভীর রাতে উত্তর কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভাঙচুর ও তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়াও শুরু করবে। অভিযোগ, ওই হামলার উদ্দেশ্য ছিল হাসপাতাল চত্বরে অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করা এবং একই সময়ে চলা ‘উইমেন, রিক্লেম দ্য নাইট’ আন্দোলন থেকে জনমত ও সংবাদমাধ্যমের নজর ঘুরিয়ে দেওয়া।
চলতি বছরের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরজি কর মামলার তদন্ত নতুন করে শুরু করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তৎকালীন কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত কুমার গোয়েল, তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার (উত্তর বিভাগ) অভিষেক গুপ্ত এবং তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার (মধ্য বিভাগ) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।
নবান্নের এক শীর্ষ সূত্রের বক্তব্য, নতুন সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। আরজি কর মামলায় প্রমাণ নষ্ট করা বা বৃহত্তর ষড়যন্ত্রকে আড়াল করার চেষ্টার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অপ্রয়োজনীয় মামলা প্রত্যাহার করে তাঁদের হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়াই সরকারের অগ্রাধিকার।



















