আগরতলা, ১৪ জুলাই: ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুকুটে যুক্ত হল আরও একটি নতুন পালক। বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের থিন ফিল্মস ন্যানোসায়েন্স ল্যাবরেটরি-এর এক গবেষকের অসাধারণ সাফল্যে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে স্বীকৃতি পেল প্রতিষ্ঠানটি।
অধ্যাপক সৈয়দ আরশাদ হুসেনের তত্ত্বাবধানে গবেষণা করে ড. ফারহানা ইয়াসমিন রহমান তাঁর পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল পরিবেশবান্ধব স্মৃতি ডিভাইস তৈরি, যেখানে উদ্ভিজ্জ নির্যাস ব্যবহার করে টেকসই ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা হয়েছে।
গবেষণায় তিনি দেখিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে পাওয়া বিভিন্ন উদ্ভিদ যেমন পদ্ম, গোলাপ এবং সজনে (ড্রামস্টিক)-এর নির্যাস ব্যবহার করে কম খরচে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রনিক মেমরি ডিভাইস তৈরি করা সম্ভব। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে সিলিকন-ভিত্তিক প্রযুক্তির বিকল্প বা সহায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ড. রহমানের এই উদ্ভাবনী গবেষণা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। টেকসই ইলেকট্রনিক্সের ক্ষেত্রে তাঁর কাজের জন্য তিনি জার্মান পেটেন্ট লাভ করেছেন। এই সাফল্য ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতমানের গবেষণা ও আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি, ড. ফারহানা ইয়াসমিন রহমান জাপানের মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পদার্থবিজ্ঞান ও উপাদান গবেষণা ইনস্টিটিউট-এ পোস্টডক্টরাল ফেলো হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানে তিনি আয়নিক ডিভাইস গ্রুপ-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ট্রানজিস্টর-ভিত্তিক নিউরোমরফিক ডিভাইস তৈরির গবেষণায় কাজ করবেন। এই গবেষণা ভবিষ্যতের উন্নত কম্পিউটিং প্রযুক্তির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিন ফিল্মস ন্যানোসায়েন্স ল্যাবরেটরি-এর এই সাফল্য দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মহলেও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করেছে। স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ব্যবহার করে উন্নত ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি তৈরির সম্ভাবনা এই গবেষণার মাধ্যমে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।



















