নয়াদিল্লি, ১৩ জুলাই(আইএএনএস) : গো-হত্যা বিরোধী আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং দেশজুড়ে কসাইখানা নিয়ন্ত্রণের দাবিতে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) সোমবার প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়ে খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, যদি আদালতের কোনও বিদ্যমান নির্দেশ লঙ্ঘিত হয়ে থাকে, তবে সে ক্ষেত্রে অবমাননার মামলা (কনটেম্পট পিটিশন) দায়ের করাই উপযুক্ত আইনি পথ।
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ মামলাটি শুনানির সময় আবেদনকারীকে জানায়, যদি কোনও আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘিত হয়ে থাকে, তাহলে অবমাননার মামলা দায়ের করুন। এরপর আদালত মামলাটি প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়ে খারিজ করে দেয়।
আবেদনকারী কেন্দ্র, সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ২০০৫ সালের ‘স্টেট অব গুজরাট বনাম মির্জাপুর মোতি কুরেশি কাসাব জামাত’ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী গো-হত্যা বিরোধী আইন কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানান। পাশাপাশি কসাইখানা পরিচালনার জন্য নির্দেশিকা জারি এবং আইন লঙ্ঘনকারী পরিচালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি করা হয়।
আইনজীবী বরুণ কুমার সিনহার মাধ্যমে দায়ের হওয়া আবেদনে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট ওই ঐতিহাসিক রায়ে গরু জবাইয়ের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী আইনগুলির সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সেই রায় কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
আবেদনে দাবি করা হয়, জনস্বার্থে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে যাতে সুপ্রিম কোর্টের বাধ্যতামূলক রায় যথাযথভাবে কার্যকর হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সারা দেশে নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়ন করে।
পিটিশনে গরু সংরক্ষণ সংক্রান্ত সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর উল্লেখ করে বলা হয়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮ অনুযায়ী রাজ্যের দায়িত্ব হল গবাদি পশুর উন্নয়ন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং গরু, বাছুর ও দুধ ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত পশুর জবাই নিষিদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
এছাড়াও আবেদনে ‘মোহাম্মদ হানিফ কুরেশি বনাম বিহার রাজ্য’ মামলার সাংবিধানিক বেঞ্চের রায় এবং সাত বিচারপতির বেঞ্চের ‘স্টেট অব গুজরাট বনাম মির্জাপুর মোতি কুরেশি কাসাব জামাত’ মামলার রায়ের উল্লেখ করা হয়, যেখানে গরু ও গরু-বংশীয় পশু জবাইয়ের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখা হয়েছিল।
পিটিশনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ মন্ত্রকের প্রকাশিত প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন রাজ্যের গো-হত্যা বিরোধী আইন সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি চলতি বছরের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্ব্যক্ত করে একটি গণবিজ্ঞপ্তিও জারি করেছিল।
























