গুয়াহাটি, ১৩ জুলাই (আইএএনএস) : আদালতের হেফাজতে টানা ৩০ দিন থাকলে প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীকে পদ থেকে অপসারণের পরিবর্তে সাময়িক বরখাস্ত করার সংসদীয় কমিটির প্রস্তাবিত সুপারিশের তীব্র সমালোচনা করলেন অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ)-এর প্রধান এবং বিন্নাকান্দি কেন্দ্রের বিধায়ক বদরুদ্দিন আজমল।
সোমবার বিধানসভার অধিবেশনের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আজমল বলেন, রাজনৈতিক নেতারা কখনও এমন আইন প্রণয়ন করবেন না, যা ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা হতে পারে। তাঁর প্রশ্ন, কে কাকে শাস্তি দেবে? আজ যারা আইন করবে, আগামী দিনে সেই আইনই তাঁদের ওপর প্রয়োগ হতে পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধিরা একে অপরকে রক্ষা করেন এবং নিজেদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনতে আগ্রহী নন। তাঁর দাবি, কাউকে শাস্তি দেওয়ার বা নিজেদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন তৈরির কোনও সদিচ্ছা নেই। এই ধরনের প্রস্তাব সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করারই চেষ্টা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আজমল আরও দাবি করেন, সংসদের বহু সাংসদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। কোনও প্রমাণ পেশ না করেই তিনি বলেন, দেশের ৬৫ শতাংশেরও বেশি সাংসদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা বিচারাধীন। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের আশা করা যায় না।
এদিন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) নিয়েও বিজেপিকে নিশানা করেন এআইইউডিএফ প্রধান। তাঁর অভিযোগ, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনগুলিকে সামনে রেখেই বিজেপি আবার ইউসিসির বিষয়টি সামনে আনছে।
আজমলের বক্তব্য, বিজেপি যেখানে ক্ষমতায় রয়েছে সেখানে ইউসিসি কার্যকর করার চেষ্টা করবে, তবে বাস্তবে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটবে না। তাঁর দাবি, বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে হিন্দু ভোটকে লক্ষ্য করেই এই ইস্যু ফের উত্থাপন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকা সাংবিধানিক পদাধিকারীদের বিষয়ে সংস্কার নিয়ে আলোচনা করতে গঠিত একটি সংসদীয় কমিটি প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীদের ক্ষেত্রে নতুন সুপারিশ করেছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকলে তাঁকে সরাসরি পদচ্যুত না করে সাময়িক বরখাস্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এই প্রস্তাব ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিজেপি-শাসিত একাধিক রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক আলোচনা জোরদার হয়েছে।
























