নয়াদিল্লি, ১২ জুলাই (আইএএনএস) : অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, রাম মন্দিরে অনুদান কেলেঙ্কারির বিষয়টি থেকে জনমানসের দৃষ্টি সরাতেই ওয়াকফ জমি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সম্প্রতি যোগী আদিত্যনাথ অভিযোগ করেছিলেন, ওয়াকফ সম্পত্তি দখল ও বেআইনি বিক্রির অভিযোগে সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এবং কংগ্রেস নীরব থাকলেও অযোধ্যার ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপিকে আক্রমণ করছে।
উল্লেখ্য, রাম মন্দিরে অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই বিরোধীরা বিজেপিকে নিশানা করছে। যদিও এই ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। পাশাপাশি তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার এবং সংখ্যালঘু তোষণের রাজনীতি করার অভিযোগও তুলেছেন।
গত মঙ্গলবার প্রতাপগড়ে এক অনুষ্ঠানে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ওয়াকফ সম্পত্তি দখলের মতো বিষয়গুলিতে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি চুপ থেকেছে, অথচ অযোধ্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালাচ্ছে।
এর জবাবে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ পুষ্পেন্দ্র সরোজ বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ভিত্তিহীন অভিযোগ করা উচিত নয়। যদি তাঁর কাছে কোনও প্রমাণ থাকে, তাহলে তা প্রকাশ করুন। সমাজবাদী পার্টির আমলে যদি কোনও ভুল হয়ে থাকে, তবে উত্তরপ্রদেশের মানুষ দু’বার বিজেপিকে ক্ষমতায় এনে তার জবাব দিয়েছেন। ভগবান রামের নামেই বিজেপি ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ধর্ম, আস্থা এবং রাম মন্দিরকে সামনে রেখেই বিজেপি রাজনীতি করেছে এবং মানুষ সেই বিশ্বাসে তাদের ক্ষমতায় এনেছে। এখন রামের নামেই যখন অনুদান চুরির অভিযোগ উঠেছে, তখন মুখ্যমন্ত্রী আসল বিষয় থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছেন।
কংগ্রেস সাংসদ তারিক আনোয়ার ও যোগীর মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, মানুষ যদি শিক্ষিত হতেন, তাহলে এ ধরনের মন্তব্য করতেন না। রাম মন্দির হোক বা বাবরি মসজিদ, বিষয়টি ১৯৪৯ সাল থেকে আদালতে বিচারাধীন ছিল। আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত সমর্থন বা বিরোধিতার কোনও অর্থ ছিল না। বিজেপি শুধুমাত্র ভোটের রাজনীতির জন্য রাম মন্দির ইস্যু ব্যবহার করেছে। ভগবান রামের প্রতি তাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা নেই।
শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ন্ত বলেন, একসময় আমি যোগী আদিত্যনাথকে একজন শক্তিশালী নেতা মনে করতাম। কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের বৃহত্তম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি কী করতে চাইছেন? সমাজে বিভাজন আরও বাড়ানোই কি তাঁর লক্ষ্য? রাম মন্দির তো তৈরি হয়ে গেছে। তারপরও কেন বারবার এমন বিষয় সামনে আনা হচ্ছে, যা মানুষকে বিভক্ত করে?
তিনি আরও বলেন, বেকারত্ব, জনকল্যাণ এবং উত্তরপ্রদেশের প্রকৃত সমস্যাগুলির দিকে সরকারের নজর দেওয়া উচিত। বালাসাহেব ঠাকরে সবসময় হিন্দুদের ঐক্যের কথা বলতেন এবং জাতপাতের বিভাজনের বিরোধিতা করতেন। অথচ এখন সমাজকে আরও বিভক্ত করার রাজনীতি চলছে।
শিবসেনা (ইউবিটি)-র নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, এটা নিছকই ‘হোয়াটঅ্যাবাউটারি’। অন্য কেউ কিছু করেছে বলে নিজেদের দায় এড়ানো যায় না। মানুষ তাদের দায়িত্ব দিয়েছে। রাম মন্দির ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত অধিকাংশই বিজেপির ঘনিষ্ঠ ছিলেন। অযোধ্যার মানুষ বিষয়টি বুঝেছিলেন বলেই লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পরাজিত করেছেন।
কংগ্রেস নেতা হুসেন দালওয়াই ও শাসক দলকে কটাক্ষ করে বলেন, রাম মন্দিরের অনুদানের টাকা কোথায় গেল? সম্ভবত এভাবেই তা ব্যবহার করা হচ্ছে। আগে ভোট চুরি, তারপর আসন চুরি, আর এখন মন্দিরের অনুদানও লুটের অভিযোগ উঠছে। লুট, মিথ্যা বলা এবং চুরি এসবই যেন তাদের রাজনীতির অংশ হয়ে উঠেছে।
























