নয়াদিল্লি, ৭ জুলাই (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইজল-স্থিত ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম (এনএইচএম)-কে জৈব বৈচিত্র্য আইন, ২০০২-এর ৩৯ নম্বর ধারার অধীনে ‘ডিজাইনেটেড রিপোজিটরি’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
মঙ্গলবার এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই স্বীকৃতির মাধ্যমে এনএইচএম দেশের ২১তম ডিজাইনেটেড রিপোজিটরি-তে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ভারতের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল বায়োডাইভার্সিটি অথরিটির সুপারিশ এবং প্রস্তাবের বিস্তারিত পর্যালোচনার পর কেন্দ্রীয় সরকার গত ১৯ জুন এই স্বীকৃতি প্রদান করে।
ডিজাইনেটেড রিপোজিটরিগুলি জৈব বৈচিত্র্য আইন, ২০০২-এর আওতায় সংগৃহীত ও প্রমাণিত জীববৈজ্ঞানিক নমুনা সংরক্ষণের মাধ্যমে দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এনএইচএম-এ বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর নমুনা সংরক্ষণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্টেরিডোফাইট, ম্যাক্রোফাঙ্গি, সরীসৃপ, উভচর, মাছ, মথ, বিটল এবং প্রজাপতির নমুনা।
এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানটি ওই অঞ্চলে নতুন আবিষ্কৃত প্রজাতির ‘টাইপ স্পেসিমেন’ সংরক্ষণের সরকারি কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে। এর ফলে প্রজাতি শনাক্তকরণ, গবেষণা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আরও কার্যকর হবে। ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আবাসস্থল ধ্বংস বা কোনও প্রজাতির সংখ্যা কমে গেলে পরিবেশ পুনরুদ্ধারের কাজেও এই সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই স্বীকৃতি পাওয়ার আগেই এনএইচএম ৫০০-রও বেশি নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছে। এর মধ্যে হার্বেরিয়াম শিট এবং তরলে সংরক্ষিত বিভিন্ন জীবের নমুনাও রয়েছে।
মিউজিয়ামের বৈজ্ঞানিক দলে মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন। তাঁরা ম্যাক্রোফাঙ্গি, প্টেরিডোফাইট, মাছ, মথ এবং প্রজাপতি-সহ সাতটি বিশেষ শ্রেণিবিন্যাসভিত্তিক ক্ষেত্রে গবেষণা করছেন।
সরকারের মতে, এই স্বীকৃতির ফলে জীববৈজ্ঞানিক নমুনা উৎসস্থলের কাছাকাছি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এতে বৈজ্ঞানিক নথিভুক্তিকরণ আরও উন্নত হবে, পরিবহণ-সংক্রান্ত সমস্যা কমবে এবং মিজোরাম স্টেট বায়োডাইভার্সিটি বোর্ড ও আঞ্চলিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার হবে।
এছাড়া বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া এবং অন্যান্য স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই উদ্যোগ ভারতের জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (২০২৪–২০৩০)-এর চতুর্থ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে। পাশাপাশি কুনমিং–মন্ট্রিয়ল গ্লোবাল বায়োডাইভার্সিটি ফ্রেমওয়ার্ক-এর লক্ষ্য পূরণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


















