তিরুবনন্তপুরম/ওয়ানাড়, ৭ জুলাই (আইএএনএস): কেরলের ওয়ানাড় জেলার আনাক্কামপোয়িল–কাল্লাডি টানেল সড়ক প্রকল্প এলাকায় ভয়াবহ মাটিধসে একজন নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন সাতজন এবং এখনও সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সতীশন। তিনি ঘটনাটিকে “অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ট্র্যাজেডি” বলে অভিহিত করেছেন।
মাটিধসের ঘটনাটি ঘটেছে কাল্লাডির মীনাক্ষী সেতুর কাছে, যেখানে টানেল সড়ক প্রকল্পের ওয়ানাড় প্রান্তে নির্মাণকাজ চলছিল। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টার টানা প্রবল বৃষ্টির জেরে খনন করে তোলা বিপুল পরিমাণ মাটির স্তূপ ধসে পড়ে নির্মাণস্থলের একটি বড় অংশ চাপা পড়ে যায়। গত ২৪ ঘণ্টায় মেপ্পাডি এলাকায় ২২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
এলাকাটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় ঘটনাস্থলের কাছে একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি এবং নির্মাণশ্রমিকদের বহনকারী একটি বাস দাঁড়িয়ে ছিল। উদ্ধারকারী বাহিনীর আশঙ্কা, এখনও কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন।
কেরল স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (কেএসডিএমএ) সদর দফতরে জরুরি বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী সতীশন জানান, অবিরাম বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হলেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় অভিযান চলছে।
তিনি বলেন, “সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একজনের মৃত্যু হয়েছে, সাতজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং আরও সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নির্মাণস্থলে খনন করে তোলা বিপুল পরিমাণ মাটি সরিয়ে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে গত ২০ জুন আনুষ্ঠানিক সরকারি নির্দেশও জারি করা হয়েছিল। কিন্তু সংস্থাটি সেই নির্দেশ মানেনি।
সতীশন বলেন, “চলমান যে কোনও প্রকল্পে নিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে মেনে চলা বাধ্যতামূলক। এত বড় দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” তিনি রাজস্বমন্ত্রী এ. পি. অনিল কুমার এবং কৃষিমন্ত্রী টি. সিদ্দিককে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে রওনা হওয়ার আগে কৃষিমন্ত্রী টি. সিদ্দিক সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে যে টানেল নির্মাণের সময় খনন করে তোলা মাটি যেভাবে স্তূপ করে রাখা হয়েছিল, সেটাই এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
তিনি জানান, আহতদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। দুটি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) দল ঘটনাস্থলে পৌঁছচ্ছে এবং দমকল কর্মীরা ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।
সিদ্দিকের দাবি, আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি না মেনে মাটি ফেলে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “এটি প্রাকৃতিক ভূমিধস নয়, এটি একটি মানবসৃষ্ট বিপর্যয়।” তিনি আরও জানান, পূর্বের সতর্কবার্তার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে, ওয়ানাড়ের লোকসভা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও জেলার জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলে উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন।



















