নয়াদিল্লি, ৭ জুলাই (আইএএনএস): দিল্লি সরকারের ৭০ লক্ষ গাছ লাগানোর উচ্চাভিলাষী কর্মসূচির উদ্বোধন করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মঙ্গলবার বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীর ‘রিজ’ অঞ্চলকে শহরের ‘সবুজ ফুসফুস’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে এবং দিল্লির পরিবেশ নতুন প্রাণ ফিরে পাবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর ৩৪টি স্থানে একযোগে শুরু হওয়া ‘মেগা ট্রি প্ল্যান্টেশন ড্রাইভ’-এর উদ্বোধন করেন অমিত শাহ। তিনি প্রেসিডেন্টস বডিগার্ডের আবাসস্থল সেন্ট্রাল রিজ এলাকায় একটি চারা গাছও রোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি ও যোগেন্দ্র চাঁদোলিয়া, দিল্লির মন্ত্রী পরভেশ ভার্মা এবং মঞ্জিন্দর সিং সিরসা।
এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (এনডিএমসি)। সংস্থার লক্ষ্য প্রায় ৬০০টি গাছ এবং ৫০ হাজার ঝোপজাতীয় গাছ রোপণ করা। এনডিএমসির সহ-সভাপতি কুলজিৎ সিং চাহাল জানান, ইতিমধ্যেই ৫০ হাজারের বেশি গাছ লাগানোর জন্য গর্ত প্রস্তুত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, দিল্লির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রিজ এলাকা দেখা যায়। সেখানে বাবুল-সহ নানা ধরনের কাঁটাযুক্ত ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গাছ রয়েছে। এগুলি দেখতে সবুজ মনে হলেও প্রকৃত অর্থে পরিবেশের পক্ষে উপকারী নয়।
তিনি জানান, ১৯৯৪ সালে ৭,৭৮৪ হেক্টর রিজ এলাকা ভারতীয় বন আইনের আওতায় বিজ্ঞাপিত হলেও গত ৩০ বছরে তার চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি।
রেখা গুপ্তা সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে শাহ বলেন, বর্তমানে ৫,০০০ হেক্টর রিজ এলাকাকে বনাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পুরো রিজ এলাকাকে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার, মাটি ও জলসম্পদ সংরক্ষণ এবং দিল্লির পরিবেশকে নতুন জীবন দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী তিন বছরে গোটা রিজ এলাকায় ধাপে ধাপে পিপল, বট, নিম, গুলার, অর্জুন এবং জামুনের মতো শতবর্ষজীবী দেশীয় গাছ লাগানো হবে। এর মাধ্যমে রিজ এলাকাকে দিল্লির ‘সবুজ ফুসফুসে’ পরিণত করার কাজ শুরু হয়েছে।
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচিরও প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তাঁর কথায়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এটি দেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।
এনডিএমসির সহ-সভাপতি কুলজিৎ সিং চাহাল জানান, ‘এক পেড় মা কে নাম – অন সানডে’ অভিযানের আওতায় সংস্থা টানা ৩১টি রবিবার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন করেছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে এনডিএমসি ১,৪৫০ একর সবুজ এলাকা রক্ষণাবেক্ষণ করে। এর মধ্যে রয়েছে ছয়টি আইকনিক পার্ক, ১২২টি আবাসিক পার্ক, ৯৮১টি সিপিডব্লিউডি পরিচালিত পার্ক, ৫২টি স্কুলের সবুজ এলাকা, ৫১টি ট্রাফিক আইল্যান্ড, ১৪টি বাজার সংলগ্ন উদ্যান এবং প্রায় ১৫ হাজার রাস্তার ধারের গাছ।
চাহালের দাবি, দিল্লির মোট ভৌগোলিক এলাকার মাত্র ৩ শতাংশ জুড়ে এনডিএমসির অধিক্ষেত্র হলেও, রাজধানীর মোট সবুজ আচ্ছাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশ এই সংস্থার অধীনে রয়েছে। ফলে দেশের অন্যতম সবুজ নগর স্থানীয় প্রশাসন হিসেবে এনডিএমসি বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে।



















