আগরতলা, ৬ জুলাই: বিদ্যুতের বেসরকারিকরণ প্রত্যাহার, স্মার্ট মিটার বাতিল, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড -এর দুর্নীতির তদন্ত, অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ মাশুল ও বিভিন্ন অতিরিক্ত চার্জ প্রত্যাহারের দাবিতে রাজ্যব্যাপী গণপ্রতিরোধ আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার সদর জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানের সামনে বিবেকানন্দের মূর্তির পাদদেশে এক গণধর্নার আয়োজন করা হয়।
ধর্না কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা,
প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী, সদর জেলা কংগ্রেস সভাপতি তন্ময় রায়, যুব কংগ্রেস সভাপতি নীলকমল সাহা, মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী সর্বাণী ঘোষ, নেত্রী পৃথা দেব, ওবিসি কংগ্রেসের চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন দেবনাথ-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা রাজ্যে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে সাধারণ মানুষের ওপর লাগামছাড়া বিদ্যুৎ বিলের বোঝা চাপানো হচ্ছে, অন্যদিকে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, মাদক পাচার, নারী নির্যাতন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বললেও বাস্তবে অপরাধ দমনে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাদক পাচার চক্রে প্রভাবশালীদের জড়িত থাকার কথা সরকার নিজেই স্বীকার করলেও এখনও পর্যন্ত কোনও বড় রাঘববোয়ালকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। পাশাপাশি শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে মনীষা হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ঘটনার প্রকৃত তথ্য এখনও জনসমক্ষে আসেনি, ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে আশীষ সাহা বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা চাপানো অমানবিক। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে এবং সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন কামনা করেন।
প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার পর
দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সময় বিদ্যুৎকে জনস্বার্থের অন্যতম মৌলিক পরিষেবা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণের নীতি গ্রহণের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশনের আর্থিক অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, একসময় লাভজনক সংস্থা হলেও বর্তমানে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে একাধিকবার বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন নতুন খাতে অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে।
স্মার্ট মিটার প্রসঙ্গে প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, প্রিপেইড স্মার্ট মিটার ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জন্য কার্যকর নয়। তিনি দাবি করেন, রিচার্জ থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো অভিযোগ সামনে এসেছে, অথচ তার যথাযথ সমাধান মিলছে না। পাশাপাশি বিদ্যুৎ নিগমে দুর্নীতি, নিম্নমানের কাজ এবং পরিষেবার অবনতির অভিযোগও তোলেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকারের নীতির ফলে বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ধীরে ধীরে কর্পোরেট সংস্থার হাতে চলে যাচ্ছে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর।
সভায় বক্তারা বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, স্মার্ট মিটার চালু এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে রাজ্যের জনস্বার্থে এই আন্দোলন আগামী দিনেও ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।























