কলকাতা, ৬ জুলাই (আইএএনএস): কলকাতার সরকারি আর.জি. কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এ ২০২৪ সালের আগস্টে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে অভিযুক্ত তিন ভারতীয় পুলিশ পরিষেবা (আইপিএস) আধিকারিকের সাসপেনশনের মেয়াদ সোমবার আরও ১২০ দিন বাড়ানো হয়েছে।
গত ১৫ মে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন সুবেন্দু অধিকারী তিন অভিযুক্ত আইপিএস আধিকারিক—তৎকালীন কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত কুমার গোয়েল, তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার (উত্তর বিভাগ) অভিষেক গুপ্ত এবং তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার (মধ্য বিভাগ) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়-কে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।
সোমবার তাঁদের সাসপেনশনের মেয়াদ আরও ১২০ দিন বাড়ানো হয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, বিভাগীয় তদন্ত যাতে নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো চিকিৎসক ধর্ষণ-খুন মামলার নতুন করে তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করেছে। গত মাসে ওই এসআইটির সদস্যরা অভিষেক গুপ্ত ও ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁদের বয়ানও রেকর্ড করেন।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট সকালে আরজি কর হাসপাতাল চত্বরে ওই নারী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর রাজ্যজুড়ে চিকিৎসক সমাজ, নাগরিক সমাজ, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে সেই আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য রাজ্য এবং বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত কুমার গোয়েল ও অভিষেক গুপ্তের পদত্যাগের দাবিও ওঠে। সেই সময় ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগের মুখে পড়েন।
প্রবল জনচাপের মুখে শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিনীত কুমার গোয়েল ও অভিষেক গুপ্তকে বদলি করলেও ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (মধ্য বিভাগ) পদে বহাল রাখা হয়।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৫ মে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আরজি কর কাণ্ডের নথি পুনরায় খোলার নির্দেশ, তিন আইপিএস আধিকারিককে সাসপেন্ড করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরুর ঘোষণা করা হয়।
























