নয়াদিল্লি, ৫ জুলাই (আইএএনএস): ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (ইবিপি) কর্মসূচি ভারতের জ্বালানি রূপান্তর এবং জৈব জ্বালানি নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমেছে, বৈদেশিক মুদ্রার বিপুল সাশ্রয় হয়েছে, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস পেয়েছে এবং কৃষকদের আয়ও বেড়েছে বলে রবিবার প্রকাশিত কেন্দ্র সরকারের একটি তথ্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যপত্র অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচির ফলে ৩১০ লক্ষ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানির বিকল্প হিসেবে দেশীয় ইথানল ব্যবহৃত হয়েছে। এর ফলে ১.৯০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকরা অতিরিক্ত ১.৬০ লক্ষ কোটি টাকার বেশি আয় করেছেন এবং ৯৩০ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হয়েছে।
তথ্যপত্রে বলা হয়েছে, ভারত বর্তমানে ব্যবহৃত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৮.৫ শতাংশ আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং সরবরাহজনিত অনিশ্চয়তার প্রভাব দেশের ওপর পড়ে। এই পরিস্থিতিতে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত আখ, ভুট্টা ও চাল থেকে তৈরি ইথানল ব্যবহারের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হচ্ছে।
কেন্দ্রের দাবি, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার এখন বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত একটি পদ্ধতি। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও জাপান-সহ একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই এই ব্যবস্থা কার্যকর করেছে।
তথ্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ই-১০ বর্তমানে দেশব্যাপী মানক ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি। পাশাপাশি সরকারি সহায়তায় ই-১৫-এর ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে। সেখানে লক্ষ লক্ষ ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি রয়েছে, যা ই-৮৫ পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত জ্বালানিতে চলতে সক্ষম।
ব্রাজিল এখনও ইথানল ব্যবহারে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ। সেখানে বর্তমানে ই-২৭ মানক পেট্রোল হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং তা বাড়িয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশটিতে বিক্রি হওয়া ৮০ শতাংশেরও বেশি নতুন গাড়ি ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তিনির্ভর, যা ই-২৭, ই-৩০ অথবা বিশুদ্ধ জলীয় ইথানলে চলতে পারে।
জাপানও ধাপে ধাপে ই-১০ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি চালু করেছে।
এছাড়া কানাডা, থাইল্যান্ড এবং ইউরোপের একাধিক দেশও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নীতির অংশ হিসেবে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করছে বলে কেন্দ্রের তথ্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।



















