লখনউ, ৫ জুলাই (আইএএনএস): অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের অনুদান তছরুপের অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-এর সভাপতি চিরাগ পাসওয়ান। তাঁর বক্তব্য, অপরাধ প্রমাণিত হলে এমন শাস্তি দেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের কাজ করার সাহস না পায়।
আইএএনএস-কে চিরাগ পাসওয়ান বলেন, “এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের বিতর্ক যখন সামনে আসে, তখন তা রামভক্তদের বিশ্বাসে আঘাত করে। যাঁরা রামভক্তদের অনুভূতিতে আঘাত করেছেন, তাঁদের কাউকেই ছাড়া হবে না। আমি বিশ্বাস করি, কেন্দ্র ও উত্তরপ্রদেশ সরকার নিশ্চিত করবে যাতে কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি রেহাই না পান। দোষীদের কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত।”
এই ঘটনায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যাঁরা এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরাও রামভক্তদের অনুভূতিতে আঘাত করছেন। অন্তত এই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়।”
২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে রামমন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ তুলে চিরাগ পাসওয়ান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সরকার বা উত্তরপ্রদেশ সরকার—কেউই রামভক্তদের বিশ্বাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেবে না। তাই যারা এই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তারা ভক্তদের বিশ্বাসকে আরও আঘাত করছেন।”
এদিকে, উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রসঙ্গে চিরাগ পাসওয়ান জানান, লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস) উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন লড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, আমাদের দল উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন লড়ার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছে। জোটের কাঠামো ও কতটি আসনে লড়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য ইউনিট। রাজ্য ইউনিটের সুপারিশের ভিত্তিতে দলের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টারি বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।”
অন্যদিকে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) আন্তর্জাতিক সভাপতি অলোক কুমারও রবিবার এই বিতর্কে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিরোধী নেতাদের কাছে যদি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকে, তাহলে চলমান তদন্তে তা তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে সহযোগিতা করা উচিত।
উল্লেখ্য, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল, দলের নেতা সঞ্জয় সিং এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা রামগোপাল যাদব-সহ একাধিক বিরোধী নেতা রামমন্দিরে অনুদান তছরুপের অভিযোগ তুলেছেন। সেই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাইয়ের দাবিতে তদন্তকারী আধিকারিককে চিঠিও দিয়েছেন অলোক কুমার।



















