শ্রীনগর, ৪ জুলাই (আইএএনএস): ৫৭ দিনের অমরনাথ যাত্রার প্রথম দিনেই ১২,৩৪০ জন পুণ্যার্থী পবিত্র গুহা মন্দিরে বাবা বরফানির দর্শন করেছেন। এদিকে শনিবার সকালে জম্মুর ভগবতী নগর যাত্রী নিবাস থেকে আরও ৪,৮০০-রও বেশি তীর্থযাত্রী কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কাশ্মীর উপত্যকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, শুক্রবার বালতাল ও নুনওয়ান—দুই বেস ক্যাম্প থেকে পুণ্যার্থীরা পবিত্র গুহায় পৌঁছান। যাত্রাপথ জুড়ে “বাম বাম ভোলে”, “হর হর মহাদেব” এবং “জয় বরফানি বাবা” ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
সকালে কিছু সময় হালকা বৃষ্টি হলেও এবং আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও যাত্রা নির্বিঘ্নে চলেছে। দর্শন শেষে পুণ্যার্থীরা নিজ নিজ বেস ক্যাম্পে ফিরে যেতে শুরু করেন। সকাল তুলনামূলক শান্ত থাকলেও দুপুরের পর থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে।
শনিবার সকালে তৃতীয় দফার যাত্রীদের দুটি নিরাপত্তা-বেষ্টিত কনভয়ে নুনওয়ান ও বালতাল বেস ক্যাম্পের উদ্দেশে পাঠানো হয়।
অমরনাথ যাত্রাকে নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক, বালতাল ও পাহেলগামের যাত্রাপথ এবং পবিত্র গুহা এলাকায় বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভগবতী নগর যাত্রী নিবাস এবং তাওয়ি নদীর তীরেও বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে তৎকাল নিবন্ধন ও টোকেন বিতরণ চলছে।
তীর্থযাত্রীরা শ্রী অমরনাথজি শ্রাইন বোর্ড (এসএএসবি) এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনের ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করলেও, অনেকেই প্রতিদিন বিপুল ভিড় সামাল দিতে তৎকাল নিবন্ধন কাউন্টারের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে প্রশাসন শনিবার একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, নিবন্ধনে নির্ধারিত তারিখের আগে কোনও পুণ্যার্থীকে অমরনাথ যাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে না। নির্ধারিত তারিখেই যাত্রা করার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক পুণ্যার্থীকে যাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়। নিরাপত্তা এবং যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে এই সীমা মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
প্রশাসন জানিয়েছে, যাত্রা শুরুর আগেই দেশজুড়ে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক শাখা এবং অনলাইন মাধ্যমে অগ্রিম নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং অধিকাংশ পুণ্যার্থী সেই সুযোগ গ্রহণ করেছেন। ফলে তৎকাল নিবন্ধনের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।
নিবন্ধন ছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরে পৌঁছে যাওয়া হাজার হাজার পুণ্যার্থীকে তৎকাল ব্যবস্থার আওতায় রাখা সম্ভব নয় বলেও প্রশাসন স্পষ্ট করেছে। পাশাপাশি, যাঁরা নিবন্ধিত তারিখের আগেই পৌঁছে গিয়েছেন, তাঁদেরও নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম ও দৈনিক ধারণক্ষমতার ভিত্তিতে প্রত্যেক নিবন্ধিত পুণ্যার্থীই অমরনাথ যাত্রার সুযোগ পাবেন। সকলের নিরাপত্তার স্বার্থে শৃঙ্খলা বজায় রেখে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আবেদনও জানানো হয়েছে।
চলতি বছরের অমরনাথ যাত্রা আগামী ২৮ আগস্ট শ্রাবণ পূর্ণিমা ও রাখিবন্ধন উপলক্ষে শেষ হবে।



















