নয়াদিল্লি, ৩ জুলাই (আইএএনএস): তিন দিনের ভারত সফর সফলভাবে শেষ করে শুক্রবার দেশে ফিরলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বিদায়ের সময় তাঁকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স-এ জানান, ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই সফরে উভয় দেশ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
১ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত ভারত সফরে ছিলেন সানায়ে তাকাইচি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম ভারত সফর। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তিনি ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন। পরে সানায়ে তাকাইচি জানান, আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরে এক আন্তরিক পরিবেশে দুই নেতা ভারত-জাপান সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, দুই দেশের সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য নিয়ে আলোচনা করেন, যা ব্যক্তিগত পর্যায়ে পারস্পরিক আস্থা আরও বাড়িয়েছে।
তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আগামী বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে ভারত-জাপান সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত ১৬তম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে দুই নেতা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, জ্বালানি, উদীয়মান প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
বৈঠক শেষে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জ্বালানি স্থিতিশীলতা, পরিচ্ছন্ন শক্তি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং গবেষণা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর হয়। এছাড়া আগামী বছর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উদ্যাপনের জন্য যৌথ কর্মসূচির তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এদিন দুই প্রধানমন্ত্রী ভারত-জাপান যৌথ অর্থনৈতিক ফোরামেও অংশ নেন। সেখানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, উৎপাদন ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব বাড়ানো এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া ফর দ্য ওয়ার্ল্ড’ উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন প্রবৃদ্ধি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।



















