তেলিয়ামুড়া, ২ জুলাই: তেলিয়ামুড়া মহকুমার মুঙ্গিয়াকামী এলাকার প্রত্যন্ত কাকড়াছড়ায় অবস্থিত হাজরাপাড়া সিনিয়র বেসিক স্কুলে শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষক উপস্থিতি এবং মিড-ডে মিল পরিচালনা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশের চরম অবনতি ঘটেছে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ।
২০০৫ সালে পাহাড়ি এলাকার দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টি মুঙ্গিয়াকামী বিদ্যালয় পরিদর্শকের অধীন পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৫ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। প্রাথমিক বিভাগে একজন এবং উচ্চ প্রাথমিক বিভাগে তিনজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও নিয়মিত পাঠদান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ, বিদ্যালয় শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময় সকাল ১১টা হলেও দুপুর ১২টা পেরিয়ে গেলেও অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হয় না। শিক্ষার্থীদের একাংশকে বিদ্যালয় চত্বরে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় বলে দাবি স্থানীয়দের। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এদিকে, মিড-ডে মিল নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের পাতে শুধু ভাতের সঙ্গে কাঁচা ডিম পরিবেশন করা হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত পুষ্টিকর খাদ্য তালিকা অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
এছাড়াও অভিযোগ, সংবাদমাধ্যম বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর পরপরই শিক্ষকরা দ্রুত শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে পাঠদান শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
গোটা বিষয় নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি বলে জানা গেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এখন এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষা দপ্তর যেন বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু শিক্ষা ও পুষ্টিকর মিড-ডে মিল নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
























