আগরতলা, ১ জুলাই: জীবনের প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে দুই ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সিপাহিজলা জেলার চড়িলামের রাজীব কলোনির বাসিন্দা রত্না দাস সেনগুপ্ত। স্বামীর পরিত্যক্ত হওয়ার পর একাই সংসারের হাল ধরেছেন তিনি। রাজমিস্ত্রির যোগালির কাজ এবং গবাদিপশু পালন করে দুই ছেলেকে মানুষ করার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন এই মা। তবে ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকটের কারণে এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
জানা যায়, রত্না দাস সেনগুপ্ত যখন তাঁর ছোট ছেলে সাগরকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন, তখনই তাঁর স্বামী সংসার ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে একাই দুই সন্তানকে লালন-পালন ও পড়াশোনার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি। সংসার চালাতে রাজমিস্ত্রির যোগালির কাজের পাশাপাশি গবাদিপশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
রত্নার বড় ছেলে সুব্রত সেনগুপ্ত বর্তমানে বিবিএমসি কলেজে গণিতে অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। প্রতিদিন ভোরে মায়ের সঙ্গে গবাদিপশুর জন্য ঘাস সংগ্রহসহ সংসারের নানা কাজে হাত লাগিয়ে তারপর কলেজে যান।
অন্যদিকে, ছোট ছেলে সাগর সেনগুপ্তও পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী। তার ইচ্ছা বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে ভবিষ্যতে নিজের লক্ষ্য পূরণ করা। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে দুই ছেলের পড়াশোনার ব্যয় বহন করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে বলে জানান রত্না দেবী।
বুধবার সকালে চড়িলামের রাজীব কলোনিতে নিজের বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে হাতজোড় করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র আর্থিক অভাবের কারণে যেন দুই মেধাবী ছেলের পড়াশোনা ও স্বপ্ন থেমে না যায়। সরকার যদি পাশে দাঁড়ায়, তাহলে তাঁর সন্তানরা নিজেদের যোগ্যতায় সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।
রত্না দাস সেনগুপ্তের এই সংগ্রামের কাহিনি ইতিমধ্যেই এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দেরও আশা, সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এগিয়ে এলে দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ আরও সুগম হবে।
























