কলকাতা, ৩০ জুন (আইএএনএস) : পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার অভিযোগ করেন, পূর্বের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজ্যে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র (কাস্ট সার্টিফিকেট), বিশেষ করে তফসিলি জনজাতি (এসটি) শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন বর্তমান রাজ্য সরকার ভুয়ো শংসাপত্র সংগ্রহকারী এবং তা ইস্যুকারী—উভয়ের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে গ্রেফতার করবে।
বাঁকুড়া জেলার জনজাতি অধ্যুষিত মুকুটমনিপুরে ‘হুল দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। ১৮৫৫ সালের ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহের স্মরণে প্রতি বছর ৩০ জুন ‘হুল দিবস’ পালন করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের তৃণমূল সরকার পশ্চিমবঙ্গের জনজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়নে কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। জনজাতি সমাজকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। বিশেষ করে এসটি শংসাপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বহু ভুয়ো শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছিল। যারা এই ভুয়ো শংসাপত্র নিয়েছে এবং যারা তা দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জেলে পাঠানো হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চলতি বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গে সফরে এসে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু অপমানিত বোধ করেছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের তৃণমূল সরকার দেশের রাষ্ট্রপতিকেও সম্মান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছিল। জনজাতি উন্নয়নের জন্যও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। কিন্তু আমাদের সরকার জনজাতি সম্প্রদায়ের সার্বিক কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনজাতি উন্নয়নের জন্য ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া জঙ্গলমহল এলাকার উন্নয়নে রাজ্য বাজেটে ১,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আদিবাসী ও জনজাতি মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জনজাতি অধ্যুষিত আসনগুলিতে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে। জনজাতি ভোটার-প্রধান এবং তফসিলি জনজাতির জন্য সংরক্ষিত ১৬টি বিধানসভা আসনের সবকটিতেই বিজেপি প্রার্থী বিজয়ী হন।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় জনজাতি সম্প্রদায় থেকে নির্বাচিত বিধায়কের সংখ্যা ১৭।























