শিলং, ৩০ জুন (আইএএনএস): মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে. সাংমা মঙ্গলবার বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ভিত্তি হল উদ্যোক্তা তৈরি। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই তিনি রাজ্য সরকারের ‘অ্যাচিভার্স অব দ্য মান্থ’ কর্মসূচির সূচনা করেন, যার উদ্দেশ্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতী ব্যক্তিদের সম্মান জানানো এবং আরও বেশি মানুষকে উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা।
শিলংয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার নীতি, পরিকাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যান উদ্যোক্তারাই।
তিনি বলেন, “সরকার ভিত্তি তৈরি করে দেয়, কিন্তু অর্থনীতিকে গতি দেয় উদ্যোক্তারা। টেকসই জীবিকা সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি হল উদ্যোক্তা তৈরি।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই উদ্যোগের লক্ষ্য এমন একটি মঞ্চ তৈরি করা, যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের সফল ব্যক্তিরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে পারবেন, অন্যদের অনুপ্রাণিত করবেন এবং দেখাতে পারবেন কীভাবে সরকারি সহায়তা একটি ধারণাকে সফল উদ্যোগে পরিণত করতে সাহায্য করেছে।
সাফল্যের কাহিনি তুলে ধরার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে কনরাড সাংমা বলেন, এই কর্মসূচি বিভিন্ন ক্ষেত্রের অনুপ্রেরণামূলক গল্প সাধারণ মানুষের সামনে নিয়ে আসবে। “আমরা চাই আপনাদের সাফল্যের গল্প গোটা বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নিতে। যা আপনাদের কাছে সাধারণ মনে হতে পারে, তা অন্যদের কাছে বড় অনুপ্রেরণা,” বলেন তিনি।
তিনি ঘোষণা করেন, জুলাই মাসকে মেঘালয়ে ‘উদ্যোক্তা মাস’ হিসেবে পালন করা হবে। এই উপলক্ষে গল্প বলার অনুষ্ঠান, জনসংযোগ কর্মসূচি এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তাদের সাফল্যের কাহিনি তুলে ধরা হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একটি ব্যবসা গড়ে তোলার পথে অনিশ্চয়তা, আর্থিক ঝুঁকি এবং নির্ঘুম রাতের মতো নানা চ্যালেঞ্জ থাকে। তবে আবেগ, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় সংকল্পই একজন সফল উদ্যোক্তার পরিচয়।
নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্যর্থতা বা নেতিবাচক মন্তব্যে নিরুৎসাহিত না হয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হবে।
তিনি আরও জানান, কৃষি, ক্রীড়া, সঙ্গীত-সহ বিভিন্ন উদীয়মান ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে রাজ্য সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাইম এবং এর গ্রামীণ কর্মসূচির মাধ্যমে বহু তৃণমূল উদ্যোক্তা তাঁদের ছোট ব্যবসাকে বড় করে রাজ্যের বাইরে বড় শহরেও পণ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে মেঘালয়ের বিভিন্ন প্রান্তের ৫০ জন উদ্যোক্তাকে তাঁদের সাফল্যের জন্য সম্মানিত করা হয়। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং রাজ্যের উদ্যোক্তা পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ‘অ্যাচিভার্স অব দ্য মান্থ’ কর্মসূচির আওতায় ক্রীড়া, কৃষি, শিক্ষা এবং জনসেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রের কৃতী ব্যক্তিদেরও সম্মান জানানো হবে, যাতে গোটা রাজ্যে উদ্ভাবন, উদ্যোগ এবং উৎকর্ষের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হয়।



















