ওয়াশিংটন, ৩০ জুন (আইএএনএস): ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে উঠে এসেছেন সার্জিও গর। বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাস্তব ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
সোমবার ইউএস-ইন্ডিয়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ ফোরাম (ইউএসআইএসপিএফ)-এর লিডারশিপ সামিটে সার্জিও গরকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে সংস্থার অনারারি সিনিয়র অ্যাডভাইজার আল ম্যাসন বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে তোলা তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কই বর্তমানে ওয়াশিংটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করেছে।
ম্যাসন বলেন, “আমি ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরকে চিনি। জনসমক্ষে তিনি যেমন, ব্যক্তিগত জীবনেও ঠিক তেমনই আন্তরিক, বিশ্বস্ত, বিনয়ী এবং সবসময় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী।”
তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন ‘দ্য আর্ট অব দ্য ডিল’-এর জন্য পরিচিত, তেমনই সার্জিও গর পরিচিত ‘দ্য আর্ট অব ফ্রেন্ডশিপ’-এর জন্য। বন্ধুত্বই তাঁর স্বভাব, আর সম্পর্কই তাঁর কাজের মূল ভিত্তি।”
যদিও ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের গতি পুনরুদ্ধারে গরের ভূমিকার প্রশংসা ম্যাসনের ব্যক্তিগত মূল্যায়ন বলেই উল্লেখ করা হয়।
মঞ্চে উঠে সার্জিও গর আল ম্যাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি দীর্ঘদিনের বন্ধু ও অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা।
ভারতে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের প্রসঙ্গে গর বলেন, “আমি গত ছয় মাস ধরে ভারতে আছি এবং এই সময়ে অসাধারণ কিছু অগ্রগতি দেখেছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন বলেন, আমরা ফলাফলনির্ভর। আমি শুধু আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনায় যোগ দিতে ভারতে যাইনি, বরং দুই দেশের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতেই সেখানে গিয়েছি।”
ভারত-আমেরিকা প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর কথায়, “চুক্তির অধিকাংশ অংশ সম্পন্ন হয়েছে। মাত্র এক থেকে দুই শতাংশ বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা বাকি রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি এবং পিএএক্স সিলিকন উদ্যোগ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে।
গরের কথায়, “ভারতে গত ছয় মাসে আমি যে সম্ভাবনা দেখেছি, তা সত্যিই অসাধারণ। প্রায় প্রতিদিনই এমন নতুন নতুন ক্ষেত্র সামনে আসছে, যেখানে ভারত ও আমেরিকা একসঙ্গে কাজ করতে পারে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত আগ্রহী। “তিনি ভারতের সঙ্গে এই সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন এবং ভারত সফরের স্মৃতি এখনও স্নেহের সঙ্গে স্মরণ করেন।”
একটি ঘটনার উল্লেখ করে গর বলেন, মায়ামিতে একটি ইউএফসি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করার কথা বলেছিলেন। তখন তিনি ট্রাম্পকে জানান, ভারতে তখন সকাল ৬টা। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “তিনি (মোদি) জেগেই থাকবেন। উনি আমার মতোই।”
যদিও শেষ পর্যন্ত ফোনালাপটি পরের দিন হয়, গরের মতে, এই ঘটনা ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদির ব্যক্তিগত বন্ধুত্বেরই প্রতিফলন।
রাষ্ট্রদূত হওয়ার আগে সার্জিও গর হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেন্সিয়াল পার্সোনেল অফিসের ডিরেক্টর ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্যই তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত হওয়ায় প্রশাসনিক সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, “প্রয়োজনে আমরা সরাসরি ফোন করে সমস্যার সমাধান করি। লালফিতার দৌরাত্ম্য কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
বর্তমানে সার্জিও গর একসঙ্গে ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাম্প প্রশাসনে ভারতকে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখার নীতির প্রতিফলন তাঁর এই নিয়োগে স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে।



















