কৈলাসহর, ২৯ জুন: উনকোটি জেলার কৈলাসহর মহকুমার গৌরনগর আরডি ব্লকের টিলা বাজার স্কুল থেকে ব্রিজ হয়ে মনু নদী পর্যন্ত বিস্তৃত ‘কাটা গ্যাং’ (খাল)-এ বিষ প্রয়োগ করে হাজার হাজার মাছ নিধনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার ভোর থেকে খালের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এবং অসংখ্য পোনা মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। ঘটনায় টিলাগাঁও ও লাঠিয়াপোড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে খালের পানিতে বিষ প্রয়োগ করেছে। এই খাল শুধু জলজ সম্পদের উৎসই নয়, বরং এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শিশুদের স্নান, গৃহপালিত গরু, মহিষ, হাঁসসহ বিভিন্ন পশুপাখির পানীয় জলের অন্যতম উৎস এই খাল। ফলে পানিতে বিষ মেশানোর ঘটনায় জনস্বাস্থ্য এবং গৃহপালিত প্রাণীদের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাবাসী সতর্কতা অবলম্বন করতে শুরু করেছেন। অনেকেই গৃহপালিত পশু ও হাঁসকে খালের পানি ব্যবহার করতে দিচ্ছেন না। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাম সামিয়া ও সুশীল মালাকার জানান, সোমবার সকাল থেকেই খালের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মরা মাছ ভেসে উঠতে দেখা যাচ্ছে। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনও জানা না গেলেও এর ফলে পরিবেশ, জলজ সম্পদ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়বে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
এলাকাবাসীর দাবি, এটি শুধুমাত্র মাছ নিধনের ঘটনা নয়; বরং প্রাকৃতিক জলজ সম্পদ ধ্বংস এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। তাই প্রশাসনের কাছে তাঁরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, খালের পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়াও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে জলাশয়গুলিতে নিয়মিত নজরদারি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাশয়ে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন শুধু আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ নয়, এটি পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত তদন্ত শুরু করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
























