শ্রীনগর, ২৯ জুন (আইএএনএস): পবিত্র অমরনাথ গুহামন্দিরে সোমবার ঐতিহ্যবাহী ‘প্রথম পূজা’ অনুষ্ঠিত হল। এর মধ্য দিয়েই বার্ষিক শ্রী অমরনাথজি যাত্রা ২০২৬ (এসএএনজেওয়াই-২০২৬)-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা পর্ব সম্পন্ন হল। এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা।
প্রথম পূজার পর এক্স-এ মনোজ সিনহা লেখেন, “হর হর মহাদেব! পবিত্র অমরনাথ গুহায় ‘প্রথম পূজা’ করার সৌভাগ্য হয়েছে। এর মধ্য দিয়েই বার্ষিক অমরনাথ যাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হল।”
তিনি আরও জানান, “বাবা বরফানির কাছে সকলের শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করেছি।”
উপরাজ্যপাল বলেন, আগামী ৩ জুলাই থেকে অমরনাথ যাত্রা শুরু হচ্ছে। যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন, শ্রী অমরনাথজি শ্রাইন বোর্ড, সেনাবাহিনী, পুলিশ, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী, স্থানীয় বাসিন্দা, পরিষেবা প্রদানকারী এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
তিনি জানান, উন্নত পরিকাঠামো, যাত্রীসুবিধার সম্প্রসারণ এবং জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের সহযোগিতায় প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাঁর আশা, এ বছরের যাত্রা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন এবং ভক্তদের জন্য স্মরণীয় হয়ে উঠবে।
আগামী ৩ জুলাই শুরু হওয়া অমরনাথ যাত্রা চলবে ২৮ অগস্ট পর্যন্ত। মোট ৫৭ দিনের এই তীর্থযাত্রার সমাপ্তি হবে শ্রাবণ পূর্ণিমা ও রাখিবন্ধন উৎসবের দিনে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৮৮০ মিটার উচ্চতায় অনন্তনাগ জেলার কাশ্মীর হিমালয়ে অবস্থিত অমরনাথ গুহামন্দিরে পৌঁছতে ভক্তরা দুটি পথ ব্যবহার করেন— ঐতিহ্যবাহী দীর্ঘ পহেলগাঁও রুট এবং অপেক্ষাকৃত ছোট বালতাল রুট।
পহেলগাঁও পথ ধরে যাত্রীরা সাধারণত চার দিনে গুহামন্দিরে পৌঁছন। অন্যদিকে, বালতাল রুটে যাত্রা করলে একই দিনে দর্শন করে বেস ক্যাম্পে ফিরে আসা সম্ভব।
অমরনাথ গুহার ভিতরে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বরফের শিবলিঙ্গ রয়েছে, যা চাঁদের কলা অনুযায়ী আকারে বাড়ে ও কমে। ভক্তদের বিশ্বাস, এই বরফলিঙ্গই ভগবান শিবের অলৌকিক শক্তির প্রতীক।
এ বছর নিরাপত্তার কারণে দুই বেস ক্যাম্প থেকে গুহামন্দির পর্যন্ত পুরো পথকে ‘নো-ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে যাত্রাপথে কোনও হেলিকপ্টার পরিষেবা থাকছে না।
























