ভুবনেশ্বর, ২৯ জুন (আইএএনএস): পবিত্র স্নানপূর্ণিমা উপলক্ষে সোমবার ওড়িশার পুরীতে জগন্নাথধামে ভক্তদের ঢল নামে। ভগবান জগন্নাথ, তাঁর দাদা বলভদ্র এবং বোন সুভদ্রার ঐতিহ্যবাহী মহাস্নান বা দেবস্নান পূর্ণিমা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী পুরীতে সমবেত হন।
এই আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই আগামী ১৬ জুলাই শুরু হতে চলা ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সোমবার ভোরে সেবায়েতরা ‘পাহান্ডি বিজে’ প্রথা অনুসরণ করে ঢাক, ঘণ্টা, শঙ্খসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনির মধ্যে মূল মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে তিন দেবদেবীকে স্নানবেদীতে নিয়ে আসেন।
দুপুর ১২টা থেকে ২টার মধ্যে মন্দির চত্বরে অবস্থিত রহস্যময় ‘সুনাকୁଆ’ বা ‘সোনার কুয়ো’ থেকে আনা সুগন্ধি পবিত্র জলভর্তি ১০৮টি কলস দিয়ে তিন দেবদেবীর মহাস্নান সম্পন্ন হওয়ার কথা।
স্নানের পর জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে বিশেষ হাতির মুখোশ পরিয়ে ‘গজানন বেশ’ বা ‘হাতি বেশ’-এ সজ্জিত করা হয়। এরপর তাঁদের আবার মন্দিরে ফিরিয়ে ‘অনসর ঘর’-এ রাখা হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মহাস্নানের পর তিন দেবদেবী জ্বরে আক্রান্ত হন। তাই তাঁরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জনসাধারণের দর্শনের বাইরে থাকেন। শুধুমাত্র দৈতাপতি ও পতি সেবায়েতদেরই তাঁদের সেবার অনুমতি থাকে।
এরপর ‘অনসর’ পর্ব শেষ হলে তিন দেবদেবী ‘নবযৌবন দর্শন’-এ নতুন রূপে ভক্তদের সামনে আবির্ভূত হন।
স্নানপূর্ণিমা উপলক্ষে এদিন পুরী গিয়ে স্নানবেদীতে ভগবান জগন্নাথের পুজো দেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি।
পুজো শেষে তিনি বলেন, “দেবস্নান যাত্রার দিনে ভগবান জগন্নাথের দর্শনের ইচ্ছা আজ পূরণ হল। ওড়িশা ও সমগ্র বিশ্বের মানুষের মঙ্গল, রাজ্যের সমৃদ্ধি এবং আসন্ন রথযাত্রা যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেই প্রার্থনাই করেছি।”
পরে তিনি রথযাত্রার জন্য তৈরি হওয়া তিনটি রথের নির্মাণকাজও পরিদর্শন করেন।
স্নানযাত্রা উপলক্ষে নিরাপত্তায় কড়া ব্যবস্থা করেছে পুরী পুলিশ। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ওড়িশা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন চারজন কমান্ড্যান্ট বা পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আধিকারিক, ১৪ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বা ডেপুটি কমান্ড্যান্ট, ৩১ জন ডিএসপি বা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট, ৮৩ জন ইন্সপেক্টর ও সাব-ইন্সপেক্টর, ৩৪০ জন এসআই ও এএসআই এবং ৭৯ প্লাটুন পুলিশ বাহিনী। এছাড়াও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।



















